মিতু হত্যার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার সময় পিছিয়ে ৬ মে

196

চট্টলা নিউজ : চট্টগ্রামের আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় অগ্রগতি প্রতিবেদনের তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করতে আরো কিছু সময় প্রার্থণা করায় নির্ধারিত সময় পিছিয়ে আগামী ৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে পরদিন ৬ মে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এদিকে আলোচিত মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে জানিয়ে এই মামলার পলাতক দুই আসামিকে খুঁজে বের কওে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী।

এর আগে গত বছরের ২ ডিসেম্বর আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় পিবিআই’র কাছ থেকে তদন্তের লিখিত অগ্রগতি প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট। মামলার আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমের জামিন শুনানিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মিতু হত্যা মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে আদালতের কাছে আরো কিছু সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তিন মাস সময় দিয়েছেন।

আগামী ৬ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করে এ সময়ের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। এর আগে ৩১ জানুয়ারি এ হত্যা মামলায় তদন্তের লিখিত অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। এসময় একই মামলায় মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম নামের এক আসামির জামিন আবেদনটির শুনানি মুলতবি রেখেছেন আদালত।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন-আইনজীবী শংকর প্রসাদ দে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন-ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

আইনজীবী শংকর প্রসাদ দে জানান, তার মক্কেল (ওয়াসিম) সাড়ে চার বছর ধরে জেলে আছেন। আসামি মোতালেব মিয়া প্রকাশ ওয়াসিম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর এলাকার আবদুন নবীর ছেলে।

প্রসঙ্গত : চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী নাহিদা আক্তার মিতুকে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম নগরের ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাত করেই তাকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৬ জুন মো. আনোয়ার ও মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতে এ দুইজনের দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের মূল ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে মুছার নাম উঠে আসে। তাছাড়া মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আবু নসুর গুন্নু, শাহ জামান ওরফে রবিন, সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু ও শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আটক হন এহেতাশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনির। তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় যেটি মিতু হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছিল তখন। তবে ওই বছরের ২৪ জুন ঢাকার বনশ্রীর শ্বশুরের বাসা থেকে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া এহতেশামুল হক ভোলাও গত বছরের ডিসেম্বরে জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং দুজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তবে জবানবন্দিতে আসা ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা ও কালুর খোঁজ পুলিশ চার বছরেও ‘পায়নি’।

Advertisement