খালেদা জিয়া নয়,দেশের গণতন্ত্র গৃহবন্দি হয়ে আছে: শামীম

199

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনাদোষে মিথ্যা মামলা দিয়ে তিন বছর আটক করে রেখেছিল সরকার। জামিন পাওয়া মৌলিক অধিকার থাকলেও বারবার উচ্চ আদালতে আপিল করেও জামিন পাননি তিনি। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে গত বছরের মার্চ মাসে তাঁর দন্ড স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। নামে মুক্তি পেলেও শর্তের বেড়াজালে কার্যত তাঁেক গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। আজকে খালেদা জিয়া নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রই গৃহবন্দি হয়ে আছে।

Advertisement

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকালে দোস্ত বিল্ডিং দলীয় কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে তিন বছর কারাবন্দী রাখার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধংস করে দিয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মানুষ সিটি নির্বাচনে উপলব্ধি করেছে, সরকার কতটা হিংস্র আচরণ করছে জনগণের সাথে। তাদের ক্ষমতার চেয়ার টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বার বার সাজা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী সরকার বাকশালী শাসনকে দীর্ঘ করার জন্য তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর ষড়যন্ত্র করেই চলছে। এ ষড়যন্ত্রকারীদের কবল থেকে দেশ ও মানুষকে মুক্তির জন্য আমাদের রাজপথে নামতে হবে। ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের মানুষের ভোট ও গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এতিমখানার লেনদেনের সাথে বেগম খালেদা জিয়া জড়িত নন। ব্যাংকে জমা অর্থ আত্মসাৎ হয়নি বরং ব্যাংকে তা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। এছাড়াও অর্থ এসেছে বিদেশ থেকে, এখানে রাষ্ট্রের কোনো অর্থ নেই। ঘষামাজা করে কাগজ তৈরি করে বেগম খালেদা জিয়ার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর কোনো সাক্ষীই আদালতকে বলেননি এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জড়িত। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ৭৬ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। তারপরও সরকার তাকে পরিপূর্ণ মুক্তি দিচ্ছে না। কারণ সরকার তাকে ভয় পায়। তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত থাকলে সরকারের লাগামহীন লুটপাট-অপকর্মে বিপত্তি ঘটবে এবং নিশি-রাতের ভোট ডাকাতীর নির্বাচন করতে পারবে না। এজন্য তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তার গৃহ অন্তরীণ অবস্থার অবসান করে সম্পূর্ণভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন তিনি।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, মফজল আহমদ চৌধুরী, জামাল হোসেন, ভিপি মোজাম্মেল হক, হুমায়ুন কবির চৌধুরী আনসার চেয়ারম্যান, লায়ন হেলাল উদ্দীন, হাজী মো. ইচহাক চৌধুরী, এহসানুল মওলা, নুরুল কবির, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, বাশখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. লোকমান চেয়ারম্যান, বোয়ালখালী পৌর বিএনপির আহবায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সদস্য সচিব ইউচুপ চৌধুরী, বাশখালী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব খোরশেদুল আলম আইয়ুব, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম, হাসান চেয়ারম্যান, আবুল কালাম আবু চেয়ারম্যান, এডভোকেট শওকত ওসমান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহীদুল আলম শহীদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সি. সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফৌজুল কবির ফজলু প্রমূখ।

Advertisement