শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত:খসরু

210

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় স্তম্ভ। এই স্থানের গুরুত্ব দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি। কারণ শহীদ জিয়া এখান থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আওয়ামীলীগ বা বিএনপি কেউ চাইলেই ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারবে না। ইতিহাস লিখেন ইতিহাসবিদরা। রাজনীতিবিদরা ইতিহাস রচনা করলে সেটা হয় প্রোপাগান্ডা।

Advertisement

তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের কথা চিন্তা করে। তাই করোনার কারণে শান্তিপূর্ণভাবে আগামী ২৭ মার্চ শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে বিএনপি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন কর্মসূচি পালন করবে।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে মাঠে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন কর্মসূচি সফল করার লক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে বিভিন্ন লেখক, ইতিহাসবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের লেখনি উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পুর্বাপর কথোপকথন এবং ১৯৭১ ভেতরে বাইরে” এই দুটি বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক ও সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী এ কে খন্দকার লিখেছেন,রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে বলতে গেলে আমার যেটুকু জানা শুধু সেটুকুই বলতে পারি। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ থেকে শুরু করে, ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সব প্রস্তুতি সত্বেও বিন্দু মাত্র পদক্ষেপ নিলেন না যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেই নেতৃত্ব যুদ্ধ পরিচালনা করবেন কিভাবে? আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এতটুকু ধারনা ছিলো না,কি করা হবে, আর কি করা হবে না। রেডিওতে আমি মেজর জিয়ার ঘোষনা শুনেছি। সেই সংকটময় মুহূর্তে জিয়ার ভাষণটি বিভ্রান্ত ও নেতৃত্বহীন জাতিকে কিছুটা হলেও শক্তি ও সাহস যোগায়। মেজর জিয়া যে কাজটি করতে পেরেছিলেন, তা করা উচিত ছিলো জাতীয় পর্যায়ের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের এবং এর জন্যে তাদের একটা পুর্ব পরিকল্পনাও থাকা উচিত ছিলো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক সেনা প্রধান এবং সেক্টর কমান্ডারকে এম শফিউল্লাহ “বাংলাদেশ এ্যাট ওয়ার” বইয়ে লিখেছেন ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সদলবলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়া ও অন্যদের প্রথমে গ্রেফতার এবং পরে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাক বাহিনীকে মোকাবেলার আহ্বান জানান।

“লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে”’ বইটিতে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ২৭ মার্চের বিকেলে মেজর জিয়া আসেন মদুনাঘাটে এবং বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা শোনা যায় ২৮ -৩০ মার্চ পর্যন্ত ।

“মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস” এই বইটিতে মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভূঁইয়া স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, ‘এখানে মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। আমি পুর্বেই উল্লেখ করেছি যে,বেতার কেন্দ্র থেকে সেদিন যারা মেজর জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন, তাদের নিশ্চয় মনে আছে, মেজর জিয়া তার প্রথম ভাষণে নিজেকে হেড অব দি স্টেট অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষণা করেছিলেন। ঘোষণা কার নামে প্রচারিত হয়েছিলো, সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা এই যে, জিয়াউর রহমান নিজে উদ্যোগী হয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে স্বাধীনতা সংগ্রামের কতটুকু সুবিধা হয়েছিলো, তাও বিচার্য।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ভারতীয় সেনাকর্মকর্তা লে: জেনারেল জেএফআর জ্যাকব তার “স্যারেন্ডার এযাট ঢাকা; বার্থ অফ এ নেশন” গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন মেজর জিয়া বেতার ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২৭ মর্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা অনেকেই শুনেছেন। যারা নিজ কানে শোনেনি তারাও মুখে মুখে চারদিকে প্রচার করেন।

তিনি আরো বলেন, মেজর জিয়া রেগুলার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সহায়তায় চট্টগ্রামে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ তার “জোছনা ও জননীর গল্পে” লিখেছেন, একাত্তরের ২৭ মার্চ শনিবার রাত ৮টায় রেডিওর নব ঘুরাতে ঘুরাতে এই দেশের বেশ কিছু মানুষ অদ্ভুত একটা ঘোষণা শুনতে পায়। মেজর জিয়া নামের একজন নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধের ডাক দেন। দেশের মানুষের ভেতর দিয়ে তীব্র ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক শক প্রবাহিত হয়। তাদের নেতিয়ে পড়া মেরুদন্ড একটি ঘোষণায় ঋজু হয়ে যায়। তাদের চোখ ঝলমল করতে থাকে। একজন অচেনা অজানা লোকের কন্ঠস্বর এতোটা উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে, ভাবাই যায় না। হুমায়ুন আহমেদের এই বইটি সেই সময়ে ব্যান্ড করে।দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ সরকার।

মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ তার ভাষণে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও পরবর্তীতে তার নেতৃত্বাধীন জেড ফোর্সের যুদ্ধকে স্টালিনগ্রাডের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। তাজউদ্দিন কন্যা শারমিন আহমেদ “তাজউদ্দিন আহমেদ; নেতা ও পিতা” বইয়ে লিখেছেন, ২৭ মার্চে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনাটি অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌছে যায়। তার ঘোষনাটি সেসময় বাঙ্গালী সৈনিকদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিলো।

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তার একটি গ্রন্থে বলেন, “পরের দিন সন্ধ্যায় মেজর জিয়া তার অধীনে একটি অস্থায়ী
সরকারের ফর্ম্যাটিকা ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিতে বিশ্বের সমর্থন চেয়েছিলেন।”

এছাড়া খসরু আরো কয়েকজন বিশিষ্টব্যক্তিবর্গের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন।

প্রস্তুতি সভা শুরুর আগে বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া, মুনাজাত করেন এবং নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। এ সময় মওদুদের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন স্মরণ করা হয়।

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এটাই ইতিহাস, এটাই সত্য। ইতিহসাকে বিকৃত করে কোথাও কেউ ঠিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস একটি ক্যানভাস, রং তুলি দিয়ে কেউ চাইলে অন্য অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে না। শহীদ জিয়াকে যতই ছোট করতে চাইবে, তিনি ততই উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত থাকবে। জিয়াউর রহমান ইতিহাস সৃষ্টিকারী, তিনি ইতিহাসের লেখক নয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয় আসলেই জিয়াউর রহমানের নাম আসবে। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক।

এ সময় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনত করেছি। সুবর্ণজনয়ন্তীর অনুষ্ঠান
আমরা করতে পারবো না এটা হতে পারে না। গণতন্ত্র শুধু বিএনপির জন্য নয়, আওয়ামীলীগের জন্যও দরকার। আওয়ামীলীগ দেশের সবকিছুকে বিভক্ত করে ফেলেছে। তারা ইতিহাস নিয়ে ভন্ডামী করে। শহীদ জিয়ার নাম পুলিশ দিয়ে পাহারা দিতে হয় না। শহীদ জিয়ার নাম বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বাধীনতা সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবের রহমান শামীম’র পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, হারুন উর রশিদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমদ, সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শাবু, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়া, কাজী মফিজুর রহমান, মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেণী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম, বান্দরবন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এ আজিজ, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মীর্জা, আবদুল মান্নান, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এনামুল হক এনাম, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, শহীদুল হক ভূঁইয়া ফরহাদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ।

Advertisement