শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়তে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

185

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement

তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এ বিশ্বাস আমাদের আছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দশ দিনের আয়োজনের অষ্টম দিনের অনুষ্ঠানে আজ বিকেলে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রাপ্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাতে পারি।
কারণ, হিসেবে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলে যেমন সমস্যা রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের রয়েছে অসম্ভব প্রাণশক্তি, উদ্ভাবন ক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে জয় করে টিকে থাকার দক্ষতা।

ভূটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পোপ ফ্রান্সিস এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধির ভিডিও বার্তা প্রচারিত হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন চতুর্থ বিশ্ব নেতা যিনি এই উদযাপনে যোগদান করেছেন।

ভুটান এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার কাছে একটি স্মারক ডাক টিকেট হস্তান্তর করেন।

এরআগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে ১৭ মার্চ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সোলিহ এবং তাঁর সহধর্মিনী ফাজনা আহমেদ এবং তৃতীয় দিনে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজা পাকসে এবং ৬ষ্ঠ দিন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি অনুষ্ঠানে যোগ দান করেন।

ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা আসার কথা রয়েছে।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে দশ দিনের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। অষ্ঠম দিন বুধবারের আয়োজনের থিম ছিল-‘শান্তি-মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন এদিন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রওনক জাহান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আজকের মূল প্রতিপাদ্যের ওপর সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর একটি ভিডিও প্রেজেনটেশনও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটান আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি বন্ধু-রাষ্ট্র। ভৌগোলিক নৈকট্য ছাড়াও আমাদের রয়েছে প্রায় একই ধরণের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান প্রায় এক এবং অভিন্ন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বহু প্রাচীন। ১০ম শতাব্দীতে বাংলাদেশ ভূখ-ে জন্মগ্রহণকারী বৌদ্ধ ধর্মগুরু মহাসিদ্ধ তিলোপা তিব্বত-ভুটানে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের প্রয়াত মহামান্য তৃতীয় রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুক এবং সেদেশের জনগণ স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের শুধু সমর্থনই দেননি, সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভুটানের তরুণেরা ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আহত এবং অসুস্থ বাঙালি শরণার্থীদের সেবা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানই প্রথম দেশ যে নাকি স্বাধীন বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়লাভের আগেই ৬ ডিসেম্বর ভুটান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তখন পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে বন্দী থাকার কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। আর আমার মা, আমি, শেখ রেহানা, ছোট ভাই শেখ রাসেল, পাঁচ মাস বয়সী জয়সহ আমরা সবাই তখনো পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে বন্দী ছিলাম। বন্দী দশায় যখন রেডিওতে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভুটানের স্বীকৃতি প্রদানের কথা শুনতে পেলাম, সেটি আমাদের কাছে একটি অনন্য সময় ছিল। আমরা ভুটানের জনগণের সে অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য আমরা ২০১২ সালে ভুটানের মহামান্য তৃতীয় রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুককে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করেছি।

Advertisement