শাহাদাত রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের স্বীকার

298

গত সোমবার (২৯ মার্চ) বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর কাজীর দেউড়ি নুর আহম্মদ সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীদের আহত করেছে। পরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও কোতোয়ালি থানায় মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ১ এপ্রিল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

Advertisement

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম.এ আজিজ। এছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ডা. শাহাদাত হোসেনের আইনজীবী এড. কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক এড. এ.এস.এম বদরুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এনামুল হক এনাম।

লিখিত বক্তব্যে আলহাজ্ব এম এ আজিজ বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন একজন পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। তিনি একজন পেশাজীবী চিকিৎসক। যিনি বিগত চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে জনতার মেয়র হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। যিনি মানুষকে বিনা টাকায় চিকিৎসা করেন, সাহায্য করেন। এমন একজন জনপ্রিয় নেতাকে বিনা-কারনে তার চেম্বার থেকে রোগী দেখার সময় পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে উপরোক্ত ২টি মামলা ছাড়া ও চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে তা হাস্যকর, মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের স্বীকার। পুলিশ কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই মামলা দায়ের হওয়ার সাথে সাথে গ্রেপ্তার করাও রহস্যজনক। আমরা আশা করব এই মামলাটির বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আমরা মনে করি চট্টগ্রামে সরকার বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখতেই তাকে গ্রেফতার করেছে। আমরা ডা. শাহাদাত হোসেন ও মনোয়ারা বেগম মনিসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নাজিমুর রহমান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শাহ আলমসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরাকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করে ডা. লুসি খান মামলা দায়ের করেছেন। মুজাফফর আহমেদ এবং তিন নম্বর আসামি ফাতেমা জহুরা, যিনি মুজাফফরের স্ত্রী। বলা হয়েছে, শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে জনৈক ডা. লুসি খানের মহাসচিবকে অপহরণ করা হয়েছে এবং চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বাদি লুসি খান বলছেন, গত ২০ মার্চ উনার এনজিওর অফিসে গিয়ে উনার সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং চাঁদা দাবি করা হয়েছে। মুজাফফর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। তাঁর স্ত্রী ২০২০ সালে করোনা শুরুর আগে বাংলাদেশে আসেন এবং ১১ মার্চ ২০২১ সাল থেকে মুজাফ্ফর আহমদ সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। চাঁদা দাবি এবং অপহরণের কথা বলা হচ্ছে, যে লোক বাংলাদেশে নেই তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক হয়রানি এবং একজন শিক্ষিত লোকের চরিত্রহনন বিরোধী দল করলে বাংলাদেশে এখন কতটা সহজ হয়ে গেছে, সেটাই এ মামলায় প্রমাণ।

তিনি বলেন, চকবাজার থানার এজাহার অনুযায়ী লুসি খানের সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ এখনও নিখোঁজ। কিন্তু এই মহিউদ্দিনের সাথে লুসি খান প্রতিদিন তার ফিরিঙ্গী বাজারের ঘর থেকে বের হচ্ছেন, গত ২২ মার্চ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আছে, ছবি ও সিডি আমাদের কাছে আছে। যদি কারো এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা দিতে পারব। এই চাঁদাবাজির নাটকটা কেন করা হলো প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শাহাদাত হোসেনকে কেন জড়ানো হল? আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, একটা রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হবে, আর তাঁর আগেই থানায় গিয়ে লুসি খান এজাহার লেখা শুরু করলেন। এজাহার লেখার সময় মামলার আসামিরা কে কোথায় সেটা জানেন না বাদী ? কিন্তু পুলিশ ডা. শাহাদাতকে ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল থেকে আটক করেছে, যা মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু তাঁকে রাখা হয়েছে মনসুরাবাদ ডিবি অফিসে এবং চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কোতোয়ালী থানায় যে দুইটা মামলা হয়েছে, সেখানে বলা হল ডা. শাহাদাত পলাতক। তাকে এরেস্ট করল ডিবি, অথচ আদালতে পাঠানো ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হল তিনি পলাতক। কোতোয়ালী থানার দুই মামলার ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে, একটি সার্কিট হাউজের সামনে, আরেকটি নাসিমন ভবনের সামনে। একই লোক একবার সার্কিট হাউজে, আরেকবার নাসিমন ভবনের সামনে উপস্থিতি একই সময়ে দেখাচ্ছে? আবার গ্রেফতার করা হয়েছে একই সময়ে ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল থেকে। এটা কিভাবে সম্ভব হয় প্রশ্ন তুলেন এ আইনজীবি ?

তিনি আরো বলেন, লুসি খানের মামলায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে জড়ানো হল কেন বা পুলিশ তাকে নিয়ে খেলার সুযোগ পেল কিভাবে ? মুজাফফর এবং ফাতেমা জোহরার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে চন্দনাইশ উপজেলা। ডা. শাহাদাতের গ্রামের বাড়িও চন্দনাইশে। দু’জনের কাছ থেকে লুসি খান ২০২১ সালের ৯ মার্চ তিন কোটি টাকার একটি জায়গা নিয়েছেন ফাতেমা জোহরার কাছ থেকে। চার আনা পয়সাও ওই মহিলাকে লুসি খান দেননি। রেজিস্ট্রি দলিলের নম্বর ৭৬১/২১। এক টাকাও প্রবাসী এবং তার স্ত্রীকে না দিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে তার কাছ থেকে জায়গাটা হাতিয়ে নিয়েছেন লুসি খান। এই প্রবাসী দম্পতি প্রাপ্য টাকার জন্য বিভিন্নজনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদেরকে অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন যে আপনারা চন্দনাইশে বাড়ি হিসেবে ডা. শাহাদাতের সহযোগিতা নেন। শাহাদাত হোসেন মানবীয় গুণাবলির অধিকারী এবং জনদরদী মানুষ বিধায় লুসি খানকে বলেন যে, আপনি তাদের পাওনা দিয়ে দেন। মানবতার সেবায় তিনি এ কাজ করেছেন। রোগী দেখা অবস্থায় কাউকে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাহলে সমাজে কেউ কাউকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবে না। তিনি আরো বলেন, ২০ মার্চ থেকে অপহৃত ব্যক্তি প্রতিদিন শহরে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন। প্রতিটি মামলা দায়েরের আগে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করে। কিন্তু কিভাবে বা কাদের ইশারায় কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই অভিযোগকে মামলা হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে সেটা এখন চট্টগ্রামবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে রাজনৈতিক শত্রুপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে মেয়র নির্বাচনে সৃষ্ট ইমেজ ধ্বংস করার জন্য মামলাটি করেছেন লুসি খান।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ.এম নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান, সদস্য এনামুল হক এনাম, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইস্কান্দার মির্জা, আব্দুল মান্নান, বিএনপি নেতা এড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, নূর মোহাম্মদ, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এড. মফিজুল হক ভুঁইয়া, মনজুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, কামরুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, জেলী চৌধুরী, এড. জায়েদ বিন রশিদ, এড. তুহিন প্রমুখ।

Advertisement