বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প

224

চার বছর মেয়াদি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি অনভিপ্রেত। উল্লেখ্য, রাজধানীর এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যানজট নিরসনে গৃহীত বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। অথচ এ আট বছরে প্রকল্পটির অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ।

Advertisement

বাস্তবায়নকাল বৃদ্ধির সমান্তরালে জনদুর্ভোগ ছাড়াও ব্যয় বেড়েছে অন্তত ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, যা মোটেই কাম্য নয়। শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এরপর আরেক দফায় ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সর্বশেষ কোভিড-১৯-এর কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে এবং এক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২২ সালের জুনে। বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা না গেলে ব্যয় বাড়বেই। কেননা এ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ছাড়াও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। এর বাইরে সাধারণত দুই বছর পরপর প্রকল্পের ‘রেট শিডিউল’ পরিবর্তন হয় এবং এর ফলে ব্যয়ের অঙ্ক স্ফীত হয়। কাজেই যে কোনো প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত।

দুর্ভাগ্যজনক হল, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সময় নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে দক্ষ হন না। অবশ্য এর বাইরে অবশ্য নানা ধরনের কারসাজি থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অহেতুক ব্যয় যেমন হ্রাস পায়, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশে পূর্বে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল; সেগুলোর অধিকাংশ এখনও বহাল রয়েছে, যা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। আমরা মনে করি, কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত। প্রকল্প কতটা সুন্দর- তা দেখার আগে দেখতে হবে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে কিনা এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা।

সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কেন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, তার কারণ উদঘাটন করা জরুরি। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতঃপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশকিছু বাধা চিহ্নিত করেছিল, যা আলোচ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এগুলো হলো- সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করে মালামাল ক্রয়ে অসুবিধা, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজে ধীরগতি, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা ইত্যাদি। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা নিরসনের কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি রাজধানীর এয়ারপোর্ট-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement