চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

155

ঈদ এসেই গেল। কর্মজীবীদের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে তাই জমে উঠেছে ঈদবাজার। এবার অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকার বিকিকিনি হতে পারে বলে দোকান মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন।

Advertisement

ক্রেতাদের চাপে বিক্রয়কর্মীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সি নারী-পুরুষের ভিড় এখন বিপণি কেন্দ্রগুলোতে। রোজার শুরুতে মার্কেটগুলোয় দেখা গেছে অপেক্ষাকৃত বিত্তবানদের কেনাকাটা। কিন্তু এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মার্কেটমুখী। ফলে বিপণি কেন্দ্র এলাকাগুলোয় প্রতিদিনই পরিলক্ষিত হচ্ছে ক্রেতার চাপ। চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকা।

এখানেই রয়েছে রেয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেন, জহুর হকার্স মার্কেট এবং অনেক ভ্রাম্যমাণ পসরা। এছাড়া জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, চকবাজার, ষোলশহর ২নং গেট, প্রবর্তক মোড়, টেরিবাজার এলাকা এখন মানুষে ঠাসা। শপিং মলগুলোয় ক্রেতার ভিড় আর বাইরে প্রচুর যানবাহন। মার্কেটকেন্দ্রিক ভিড়ের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে প্রচন্ড যানজট। তবে এ তো বছরে এক বা দুইবার। এই কষ্টটুকুর মধ্যে মানুষ উপভোগ করছে আনন্দও। পছন্দের পোশাক পেতে ছোটাছুটি চলছে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে।

জিইসি মোড় এলাকার সেন্ট্রাল প্লাজা, সানম্যার ওশান সিটি, ইউনুস্কো সেন্টার, প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, চকবাজারের বালি আর্কেড, ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স, আড়ং, আগ্রাবাদের আখতারুজ্জামান সেন্টার, ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর মার্কেট, লাকী প্লাজা, সাউথল্যান্ড সেন্টার, লালখান বাজারের আমিন সেন্টার, ইপিজেড এলাকার বে-শপিং সেন্টার, পাহাড়তলীর সিডিএ মার্কেট, অলংকার শপিং কমপ্লেক্সসহ প্রতিটি মার্কেট এখন জমজমাট রূপ ধারণ করেছে।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার ১০ হাজার কোটি টাকার বিকিকিনির টার্গেট আছে। তারা বলছেন, ক্রেতাও বেশ মিলছে বিক্রিও হয়েছে। ঈদের আগে বিক্রির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়বে। চট্টগ্রাম মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সালামত আলী জানান, ঈদকে ঘিরে এবার নগরীর মার্কেটগুলোতে অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হবে। আমাদের সমিতির অধীনে চট্টগ্রাম মহানগরীতে মুদি দোকান থেকে কাপড়ের দোকান মিলিয়ে তিন লাখ দোকান আছে। এর মধ্যে ছোট বড় মার্কেট মিলিয়ে কাপড়ের দোকান আছে সাত হাজারের বেশি। এসব দোকানে প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার কোটি টাকার বিক্রির টার্গেট আছে।

বিক্রি কেমন হয়েছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন মার্কেটে খবর নিয়ে দেখেছি বিক্রি বেশ ভালোই হয়েছে। বিদেশি কাপড়চোপরের চেয়ে দেশি কাপড়ের চাহিদা বেশি। সরবরাহ অন্য বছরের তুলনায় বেশ ভালো। তাই এখনো মনে করি ব্যবসায়ীরা বেশ ভালোই ক্রেতা পাচ্ছেন।
মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এছাড়াও গার্মেন্টসের তৈরি পোশাকের দোকান, জুতা স্যান্ডেলের দোকান, প্রসাধনীর দোকানে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে ক্রেতাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি।

চট্টগ্রামে এবারের ঈদ বাজারে ‘পদ্মজা’ নামের থ্রি-পিস, ‘আলিয়া কাট’ পোশাক বেশ সাড়া ফেলেছে। তাই নগরের শপিংমলগুলোতে তরুণীদের নজর এখন এই দুই পোশাকে। দোকানে এসে তরুণীরা প্রথমেই বিক্রেতাদের কাছে খোঁজ করছেন ‘পদ্মজা আর ‘আলিয়া কাট’র। এছাড়াও শপিংমলগুলোতে তরুণীদের সারারা, গারারা ও নাইরা নামের ভারতীয় পোশাকের চাহিদা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি কুর্তি, লেহেঙ্গা, ক্রপটপ গাউন আর বার্বি গাউনের দিকেও ঝুঁকছেন অনেকেই। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে পদ্মজা, আলিয়া কাট, সারারা, গারারা ও নাইরা নামের এসব পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে সুতি পোশাকের চাহিদাও রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য পোশাকও বিক্রি হচ্ছে।
ঈদে প্রতিবছরই দেশি পোশাকের চেয়ে ভারতীয় আর পাকিস্তানি পোশাকের দিকে নজর তরুণ-তরুণীদের। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। এছাড়া তরুণীরা মজেছেন সারারা আর গারারা ও নাইরা নামের পোশাকে। ভারতীয় পোশাকের দাম একটু বেশি।

শুক্রবার নগরের নিউমার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক দোকানে দোকানে উপচে পড়া ভিড়। যদিও গতবারের তুলনায় এবার দাম বেশ চড়া বলে ক্রেতাদের আছে নানা অভিযোগ-অনুযোগ। তবে বাড়তি দামের কথাটা অস্বীকার করছেন না বিক্রেতারাও।

নিউমার্কেটে মেয়েকে নিয়ে বাবা মিজানুর রহমান এসেছেন জুতার দোকানে। তিনি বলেন, মেয়ের জন্য জুতা কিনতে এসেছি। এখানে ভালো জুতার কালেকশন পেয়েছি। কিন্তু দাম একটু বেশি। চার দিন ধরে ঘুরে বহু দামাদামির পর দুই জোড়া জুতা কিনতে পেরেছি। দাম আরেকটু কম হলে আরেক জোড়া জুতা বেশি কিনে নিয়ে যেতে পারতাম। ক্রেতা আনোয়ারা শিরীন বলেন, যে দোকানেই যাই জিনিস পছন্দ হলেও দাম বেশি। তাই ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারছি না। গতবারের চেয়ে এবার জামা-কাপড়ের দাম বেশি মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্তু শপিং করতে পারব কিনা তাই ভাবছি এখন। তাদের মতো অনেক ক্রেতাই দামের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নগরের নিম্ন আয়ের মানুষের প্রথম পছন্দ জহুর হকার্স মার্কেটের প্রতিটি দোকানেই নানা ধরনের ঈদের পণ্যে ঠাসা। মোট ৮০১টি দোকান আছে এই মার্কেটে। সব ধরনের আইটেম পাওয়া যায় এই মার্কেটে। ঈদের ভরা মৌসুমে এখনো ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় বাচ্চাদের জামা-কাপড় পাওয়া যায় এই মার্কেটে। দামি কাপড়ও মিলছে। তবে এই মার্কেটে মহিলাদের আইটেম খুব কম জানালেন বিক্রেতারা। মার্কেটের একেবারে মাঝামাঝিতে অবস্থান করিম ব্রাদার্সের। দোকানের মালিক আবদুল করিম বলেন, বিকিকিনি বেশ ভালোই হয়েছ। তবে আমরা আশা করছি ঈদের আগ মুহূর্তে বিক্রি বাড়বে। আমাদের মার্কেটে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরাই বেশি আসে। জামাকাপড় দামের ক্ষেত্রে অভিজাত মার্কেটের চেয়ে অনেক কম। একটি প্যান্ট বা শার্ট এখানে ৭০০-৮০০ টাকায় পওয়া যায়। একই মানের শার্ট-প্যান্ট অভিজাত মার্কেটগুলোতে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা নেয়। অথচ মানের দিক দিয়ে একই। তাই এই মার্কেটের অবস্থা সম্পর্কে যারা অবগত তারা সারা বছর এখান থেকেই কেনে।

জহুর হকার্স মালিক সমিতির নেতারা জানান, ৮০১টি দোকানের প্রতিটি গড়ে ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে এখন। দৈনিক অন্তত দেড় কোটি টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে বিক্রিও তত বাড়ছে।

Advertisement