রাউজানে গুলি করে যুবদল কর্মী হত্যা

201

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুরে দিনেদুপুরে মো. সেলিম (৪০) নামের এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে কদলপুরের ঈশান ভট্টের হাট এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

Advertisement

নিহত সেলিম কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শমশেরপাড়া এলাকার আমির হোসেন ওরফে ছোট বাইল্যার ছেলে।

নিহতের মামা মাস্টার মো. রফিক জানান, সেলিম ঈশান ভট্টের হাট থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামিয়া নতুনপাড়ায় নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তার ওপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি ছুড়ে দ্রুত সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহাজান বলেন, “তার মুখে শর্টগানের দুটি গুলি লাগে, একটি গুলি মুখমণ্ডলে আঘাত করে মারাত্মক ক্ষতি করে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত সেলিম কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জানে আলম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন বলে জানান তার মামা।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিম এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ছিলেন। বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এক সময় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট থাকলেও পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, রাউজানে গত ৫ আগস্টের পর সহিংসতায় মোট ১৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ হয় অন্তত শতাধিকবার। তিন শতাধিক মানুষ এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন।

Advertisement