চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু

317

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) নগরের পতেঙ্গা গুপ্তখাল এলাকায় পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডেসপাস টার্মিনালে তেল সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

Advertisement

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলে তেল পরিবহন বাবদ বছরের সাশ্রয় হবে অন্তত ২০০ কোটি টাকা। এই পাইপলাইন দিয়ে ঢাকা প্রান্তে মূলত ডিজেল পরিবহন হবে। পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বছরে ২৭ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা যাবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পাইপলাইনের মাধ্যমের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় তেল পরিবহনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় চলতি বছরের মার্চে। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা ধরা হলেও কয়েক দফা বেড়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকায়। বিপিসির এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হক জানান, গত দেড় মাসে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তাতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ২২ জুন থেকে পাইপলাইন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়। গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৪ কোটি ৮২ লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা গেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় ৫০ লাখ লিটার ডিজেল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে ঢাকার গোদনাইলে পরিবহন করতে সময় লাগে মাত্র ১২ ঘণ্টা, যেখানে আগে নৌপথে লাগতো ৪৮ ঘণ্টা।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নদীপথে তেল নেওয়া হতো নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপোতে। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে ঢাকায় তেল পরিবহন করা হতো, যা ব্যয়বহুল ছিল। পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হলে এ খরচ অনেক কমবে। প্রতি বছর প্রকল্প থেকে ৩২৬ কোটি টাকা আয় হবে। পরিচালন ব্যয় হবে বছরে ৯০ কোটি টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদ দিলে বছরে ২৩৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে দ্রুত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও তেল সরবরাহ চালানো যাবে। এতে পরিবেশ দূষণ ও সিস্টেম লসও রোধ করা সম্ভব হবে।

Advertisement