জাহাজ ভাঙা শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

432

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পেশাগত নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই।  দৈনিক ১০/১২ ঘণ্টা কাজ করলেও এ শিল্পে জড়িত শ্রমিকরা কোন ওভার টাইম ভাতা পায়না।  এখানে শ্রম আইনের কোনো বালাই নেই। কোন শ্রমিক নিয়োগ পত্র কিংবা পরিচয় পত্র পায়না।
শ্রমিকরা কেবল কাজ করলেই মজুরী পেয়ে থাকে। ফলে এখানে নৈমিত্তিক ছুটি, পীড়া ছুটি, অর্জিত ছুটি, সাপ্তাহিক কিংবা উৎসব ছুটি-কোন কিছুরই প্রচলন নেই। শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ও জীবনের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

Advertisement

রোববার সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিলস এর আয়োজনে চট্টগ্রামের  সীতাকুণ্ডে ইপসা এইচআরডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাহাজ ভাঙা শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক স্থানীয় অংশীজনদের অভিহিতকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথাগুলো বলেন।

জাহাজ ভাঙা শিল্পের সেপটি কমিটির আহবায়ক এডভোকেট  জহির উদ্দিন মাহমুদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের একমাত্র জাহাজ ভাঙা কারখানায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, এ খাত থেকে সরকারী কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। এ শিল্পটি বর্তমানে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে পাশাপাশি এতে কর্মরত শ্রমিকদেরও শ্রমআইননুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা প্রধান করতে হবে। ইয়ার্ড বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে শ্রমিক বাঁচলে ইয়ার্ড চলবে।

পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য কেন্দ্র চট্টগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু’র পরিচালনায় অবহিতকরণ সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা তপন দত্ত। আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ তাজাম্মল হোসেন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা লুৎফর নেছা বেগম, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তী, সেকান্দর হোসাইন, সাংবাদিক নাছির উদ্দীন অনিক, কামরুল ইসলাম দুলু, সাইদুল হক, এস. এম ইকবাল হোসেন, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী, পিএইচপি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সেফটি বিভাগের প্রধান লিটন মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নেতা, ইয়ার্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

Advertisement