আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

‘স্বাধীনতা দিবস আমাদের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক’

76

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম বাংলাদেশের জনগণের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা এবং সাহসিকতার বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহুর্ত হিসেবে চিহ্নিত, যা দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের জন্য ত্যাগের প্রেরণা দেয়। স্বাধীনতা দিবস আমাদের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক এবং জাতীয় গৌরবের স্মারক।

Advertisement

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীরা দলীয় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন এবং প্রশিক্ষকগণ একক সংগীত পরিবেশন করেন।

আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে জেলা শিশু একাডেমিতে আয়োজিত চিত্রাংকন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

আলোচনা সভায় ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন বলেন, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল ও অহংকারের দিন। মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। এছাড়া শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী মাতৃভূমির সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজকের এই মহান স্বাধীনতা দিনে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের পূর্বপুরুষগণ যে অবর্ণনীয় কষ্ট ও আত্মত্যাগ স্বীকার করে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন, তাদের প্রতি আমাদের আজীবন শ্রদ্ধা থাকা উচিত। তোমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নিজেদের দক্ষ করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জন কেবল একটি ভূখ-ের নয়, বরং এক শাশ্বত প্রেরণার উদযাপন। এই প্রেরণা আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখে এবং উন্নয়ন, শান্তি ও মানবাধিকারের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমরা যেন বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দ আয়াজ মাবুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সাল আহমদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সফিজুল ইসলাম ও সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অসীম ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। সেই মহান উপহারকে কেন্দ্র করেই আজকের এই আয়োজন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা যে সংবর্ধনাই দেই না কেন, তা কখনোই তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় যথেষ্ট নয়, বরং তাদের উপস্থিতিই আমাদের জন্য গৌরব ও প্রেরণার উৎস। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পর্শে এলে দেশপ্রেম আরও দৃঢ় হয় এবং সেই প্রেরণাতেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জাগ্রত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এক নদী রক্ত প্রবাহিত করেছেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ পাবে এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগেরই ফল। তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এ জাতি কখনো পরাজয় মেনে নেয়নি এবং আগামীতেও নেবে না।

Advertisement