বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় এখন সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, আর অন্যদিকে আবর্জনার স্তূপে হারিয়ে যাচ্ছে নগরের নালা-নর্দমা ও ছোট-বড় জলাশয়। চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া এলাকার একটি ছবি পাঠিয়েন আমাদের প্রতিনিধি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি শুষ্ক জলাশয় বা পুকুর, যা এখন আর পানি নয় বরং প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি বর্জ্যে কানায় কানায় পূর্ণ। এই চিত্রটিই বর্তমানে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আসন্ন পরিবেশগত বিপর্যয়ের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চসিকের হিমশিম দশাঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তথ্যমতে, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে চসিক সংগ্রহ করতে পারছে সর্বোচ্চ ২,২০০ টন। বাকি প্রায় ৮০০ টন বর্জ্য নগরীর নিচু এলাকা, নালা-নর্দমা কিংবা ছবির মতো পরিত্যক্ত জলাশয়ে গিয়ে জমছে।
ডাম্পিং স্টেশনের সংকটঃ নগরের প্রধান দুটি ডাম্পিং স্টেশন- হালিশহর ও আরেফিন নগর বর্তমানে ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে- নতুন ল্যান্ডফিল্ড বা বর্জ্য রাখার জায়গা না হলে নগরীর পরিবেশ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।
তবে, ইতিমধ্যে বর্জ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছেন চসিক। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চসিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের হাত থেকে নিজের অধীনে নিয়েছে। ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহে দিতে হচ্ছে না অতিরিক্ত অর্থ। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে অনেক এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ হচ্ছে না, যার ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে জলাশয়ে ময়লা ফেলছে। এটি নাগরিক অসচেতনতার অভাবও বটে।
পরিবেশগত প্রভাবঃ
সংযুক্ত নোয়াপাড়ার ছবির মতো যখন কোনো জলাশয় বর্জ্যে ভরাট হয়ে যায়, তখন বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করে। এছাড়া এই বর্জ্য পচে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকেও দূষিত করছে। সিটি কর্পোরেশন প্রাকৃতিক কারণ ও জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের আধুনিকায়ন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
















