স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিস কন্ট্রোল (এনসিডিসি) ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আর্সেনিকোসিস, পরিবেশগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বায়ু দূষণ বিষয়ে ডাক্তার, নার্স ও প্যারা স্বাস্থ্য পেশাদারদের জন্য দিন ব্যাপী ওরিয়েন্টেশন সেমিনার আজ ২৩ মার্চ (বুধবার) বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও জেলা স্বাস্থ্য তত্ত¡াবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। বক্তব্য রাখেন এমওডিসি ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার, এমওসিএস ডা. মোঃ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ নওশাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার একটি বাংলাদেশ। এ দেশে প্রতি বছর যতো মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই পরিবেশ দূষণজনিত বিভিন্ন রোগের কারণে মারা যায়। কিন্তু সারা বিশ্বে এ ধরণের মৃত্যুও গড় মাত্র ১৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যানে তুলে ধরে বলেছে, শহরাঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। তারা বলছে, দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বায়ু দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় বায়ুর মান আদর্শ মাত্রার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। অতিরিক্ত বায়ু দূষণের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়েছে মানুষের প্রজনন ক্ষমতাসহ সার্বিক স্বাস্থ্যের উপর। জীবনমান উন্নয়নে বায়ু দূষণ রোধে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।
আর্সেনিকোসিস বিষয়ে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, দুষিত পানি পান করলে কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ও ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ হতে পারে। এছাড়া পেটের পীড়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে হাতে-পায়ে এক ধরণের ক্ষত বা ঘা তৈরী হয়। ইহা একটি ধাতব পদার্থ। এ রোগের সহজ কোনো চিকিৎসা নেই। আর্সেনিক দূষণে যে সব শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তাই আর্সেনিকোসিস রোগ নামে পরিচিত। আর্সেনিক একটি শক্তিশালী বিষ। এর কোনো রং, গন্ধ ও স্বাদ নেই। মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে চিকিৎসকদের আন্তরিক ভূমিকা রাখতে হবে।
















