রনজিত কুমার শীল, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি এবং নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।
আজ সোমবার (৬ জুন) পৃথক পৃথক সময়ে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা পরিদর্শনে যান। সীতাকুণ্ডের স্থানীয় সংসদ দিারুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আশরাফ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আজ সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ড এবং বিস্ফোরণে আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দেখতে যান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ সামিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সাহেনা আক্তারসহ চিকিৎসক দল।
আজ সোমবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে চমেক হাসপাতালে দগ্ধ রোগীদের দেখতে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত করে যদি কোন ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ছাড় দেয়া হবেনা। সে যতই শক্তিশালী হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, অবহেলা বা দায় থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সে যতবড় শক্তি শালী হোক না কেন। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এর আগে দুপুর ২ টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপো পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় সেনা, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন।
এ দিকে বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে বিএম ডিপো পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি সাংবাদিকদেও বলেন, এ ঘটনায় আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন সরকার। যেখানে যত অর্থ লাগবে, বাহির থেকে যে ওষুধ ক্রয় করতে হচ্ছে, সেটাও ডিসি মহোদয় দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কোন ধরণের ওষুধ ও খাবার সংকট নেই। চিকিৎসার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সবকিছু ব্যবস্থাও করা হবে।
৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়ে ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, তাদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন। মরদেহগুলোর মধ্যে ২২টি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষে থেকে খবর পাওয়া সঙ্গে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ৮২ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২, পার্কভিউ হাসপাতালে ১০, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ৪ জন ও ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সেনাবাহিনী উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭ জনের দায়িত্ব নিয়েছে, তার মধ্যে ২ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আর বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি। হয়তো শতভাগ আমরা সংশোধন হতে পারিনা। প্রতিদিন দুর্যোগ মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাড়ছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আজ (৬ জুন) সোমবার বিকেল সোয়া ৩ টায় দিকে বিএম ডিপো পরিদর্শনে এসে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কেউ এই ঘটনার জন্য দায়ী কিনা তা তদন্ত শেষ না হলে বলা যাবে না। তবে তদন্ত রিপোর্ট বাস্তবায়নে ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন আসার আগে কিছু বলা যাবে না। তবে এ ধরণের ঘটনা আমাদের বড় ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এটি আমাদের দেশের ভাবমূর্তির ওপর ধাক্কা। আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে বাণিজ্য করি তা অনেক প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কাজেই আমরা এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। তদন্ত করে যেটা বেরিয়ে আসবে, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।
এদিকে আজ ৬ জুন সোমবার সীতাকুন্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ড এবং বিস্ফোরণে আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দেখতে যান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ সামিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সাহেনা আক্তার, চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. অংসুই প্রু মারমা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) বদিউল আলম, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক ডাঃ বিদ্যুৎ বড়ুয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মোঃ মাহমুদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডা. মোঃ মোতাহের হোসেন চৌধুরী রতন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আ.ন.ম মিনহাজুর রহমান, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মামুন, চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রাজীব পালিত, সহকারী পরিচালক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নান, সহকারী পরিচালক ডা. সাহিদা আক্তার, সহকারী পরিচালক ডা. মাহমুদুল হক প্রমূখ। এর পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় ডা. সামন্ত লাল সেন অযথা হাসপাতালে কাউকে ভিড় না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, দগ্ধ রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভয়ের কারণ হচ্ছে সংক্রমণ। সংক্রমণ হলে দগ্ধ রোগীদের কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব না। সেজন্য অযথা কেউ ভিড় করে তাদের ঝুঁকির কারণ হবেন না।

















