নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ না থাকায় আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউপি নির্বাচন স্থগিতের দাবী জানিয়েছেন ঐ ইউপির পাঁচ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মালেক মানিক।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুন ) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা হলেন, পরৈকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আলী চৌধুরী (আনারস প্রতীক) , সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দীন সুজন (মোটর সাইকেল প্রতীক) , বিএনপি নেতা হাসান জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী (ঘোড়া প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. নাজিম উদ্দীন (টেলিফোন প্রতীক) ওআবদুল মালেক মানিক (চশমা প্রতীক)। এর বাইরে যিনি আছেন তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক চৌধুরী বাবুল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করলেও হঠাৎ করে নির্বাচনী পরিবেশ কালো মেঘে আচ্ছন্ন করে ভোটারদের আতঙ্কের ভিতর ফেলে দিয়েছে। কারণ আনোয়ারা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১০ জন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নিজস্ব বাহিনী নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ হয়ে ভোটারদের হুমকি-ধুমকি ও ভোট কেন্দ্র দখলের নীলনকশা করছে।
তারা বলেন, এলাকায় এলাকায় গিয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থদের পোস্টার ছেড়া, কর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন প্রকার হয়রানি, পুলিশি হুমকি, বহিরাগতদের আস্ফালন সর্বোপরি বহিরাগতরা ইতোমধ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাররা মা-বোন নিয়ে ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়ে আতঙ্কিত ও উদ্ধিগ্ন।
চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আরও বলেন, এই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে নৌকা প্রার্থীর বহিরাগত সমর্থকদের আনাগোনা ও কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে এবং এসব কেন্দ্রকে ঝূকিপূর্ণ হিসেবে করে তুলেছে। বিশেষ করে ভিংরোল কেন্দ্রটি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন করা এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির আঙ্গিনায় হওয়াতে তা সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ এবং গত নির্বাচনেও ভোটাররা এই কেন্দ্রে ভোট দিতে পারেনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির সম্মান রক্ষা করার আহবান জানিয়ে ৫ প্রার্থীই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বিজিবি, র্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করে নির্বাচনকে যেন কোনভাবে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সে বিষয়ে ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান।

















