তরুণ ভোটাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে নেমেছি: টুকু

193

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে, দেশ হায়েনার কবলে পড়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার
নেই। প্রায় ৪ কোটি নতুন ভোটার বিগত ১৫ বছর যাবৎ যারা নতুন ভোটার হয়েছে, তরুণ ভোটার যারা ভোট দিতে পারেনি, ভোট মানুষের অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, ভোটারেরাই একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন দল থাকবে, কোন ব্যক্তি পরিচালনা করবে সেই রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে একজন ভোটারের। তরুণ ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। বর্তমান সরকারের হাতে দেশ ও দেশের
মানুষ নিরাপদ নয়। এই সরকার দেশের সব অর্জন খেয়ে ফেলেছে। এখন রিজার্ভ গিলে ফেলেছে। আর কয়েকদিন ক্ষমতায় থাকলে পুরো দেশটাকে খেয়ে ফেলবে। দেশের অস্তিত্ব আর রাখবে না। তাই এখনই সময়-তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই
সব খেকো সরকারকে সরাতে হবে। এজন্য সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুবকদেরকে রাজপথে নামাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তারুণ্যের সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য। চট্টগ্রাম থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন আগামীকাল চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে ভোট ও ভাতের অধিকারের সংগ্রাম।

Advertisement

তিনি আজ ১৩ জুন (মঙ্গলবার) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

টুকু বলেন, সরকার ঘরে ঘরে চাকুরী দেবে বলে দেশের মানুষকে বলেছিল। কিন্তু দলীয় লোকদের চাকুরী দিতে গিয়ে দেশের মেধাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং
অধিকাংশ ভিন্ন মানুষের চাকুরীচ্যুত করেছে। বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেওয়ার কারণে মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছে আওয়ামী সরকার। কিছু দিন আগে আপনাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া দেখেছেন। কিন্তু কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। শুধু বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা কথা বলার কারণে হামলা, মামলা, গ্রেফতার ও গুমের শিকার হচ্ছে।

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এমন একটি সময়ে যখন সারাদেশের মানুষ দিশেহারা। দিশেহারা মানুষদের সামনে তিনি কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে যাননি, সম্মুখে যুদ্ধ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, রক্ত দিয়ে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। প্রত্যাশা ছিল স্বাধীনভাবে বসবাস করবো, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। সাম্যেরনপ্রতিষ্ঠা করা, অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু আজকের বাংলাদেশের এমন অবস্থা, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য। ধনী সব চাইতে ধনী আর গরিব সবচাইতে গরিব।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশ এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। লুটপাট আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সরকার দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। চারদিকে হাহাকার। জনগণ আর এই অপশাসনের ভার বইতে পারছে না। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আগামীকাল চট্টগ্রামের তারুণ্যের সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, সেই সমাবেশে তরুণরা মহাসমুদ্রের সম্মিলন ঘটবে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য। সেখান থেকেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণের বার্তা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ
সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, কেন্দ্রীয় যুবদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন সহ চট্টগ্রাম বিভাগ, জেলা ও মহানগর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Advertisement