মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি এবং লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ ও মুমিনুল হকের হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ৪৬৮ রান। জিম্বাবুয়েতে প্রথম ইনিংসে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। বরাবরের মতোই হতাশ করে দিনের শুরতেই সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হাসান শান্ত। দুইজনই ব্লেজিং মুজারাবানিকে উইকেট উপহার দেন। সাদমান ইসলাম মাটি কামড়ে শুরু করলেও আত্মহত্যা করে ৬৪ বলে ২৩ রান করে মাঠ ছাড়েন। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ হন। ১০৯ রানের ৫টি উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনে অধিনায়ক মুমিনুল হক একাই লড়াই করেছিলেন। ৭০ রান করে তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩২। এই অবস্থায় অধিনায়ককে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায় বাংলাদেশ। সেই সময়ে আশার আলো দেখান লিটন দাস ও রিয়াদ।
সপ্তম উইকেটে ১৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন ও রিয়াদ। সেঞ্চুরির আশা দেখিয়েও হতাশ করেন লিটন। ১৪৭ বলে ৯৫ রান করে ডোনাল্ড তিরিপানোর শিকারে পরিণত হন তিনি। পরের বলেই মেহেদী হাসান মিরাজকেও সাজঘরে পাঠান তিরিপানো। ২৭০ রানে ৮টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তাসকিনকে নিয়ে প্রথম দিনের শেষের সময়টুকু নির্বিঘ্নে কাটান রিয়াদ। তাসকিন যেভাবে শুরু করেছিলেন দ্বিতীয় সকালেও সেই ধারা বজায় রাখেন। দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং ও আগ্রাসী মনোভাবে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। রিয়াদ ও তাসকিন গড়েন ১৯১ রানের জুটি। এটি নবম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি।
লিটন হতাশ করলেও রিয়াদ তুলে নেন সেঞ্চুরি। প্রায় ১৭ মাস পরে টেস্ট একাদশে ফিরেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আবারও নিজের জাত চেনালেন তিনি। এটি রিয়াদের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি, বিদেশের মাটিতে তৃতীয়।
৭৫ রান করে মাঠ ছাড়েন তাসকিন। খেলেন ১৩৪টি বল, হাঁকান ১১টি চার। তাসকিনের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে টপ অর্ডারের জন্য শিক্ষণীয় এক ইনিংস। শেষ ব্যাটসম্যান এবাদত হোসেন রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। ততক্ষণে রিয়াদ ক্যারিয়ার সেরা রানে পৌঁছে যান। তিনি অপরাজিত থাকেন ১৫০ রানে।
সবকয়টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ৪৬৮ রান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাবানি শিকার করেছেন ৪টি উইকেট। তিরিপানো ও ভিক্টর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ৪৬৮/১০ (১ম ইনিংস- ১২৬ ওভার)
রিয়াদ ১৫০*, লিটন ৯৫, তাসকিন ৭৫, মুমিনুল ৭০, সাদমান ২৩, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, শান্ত ২, সাইফ ০;
মুজারাবানি ৪/৯৪, তিরিপানো ২/৫৮।
















