পে স্কেল কার্যকরের দাবীতে রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ

294

আগামী ১ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রি. হতে ৯ম পে স্কেল কার্যকর করার দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন রেল শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. এম আর মঞ্জুর সভাপতিত্বে সিআরবি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় কারিগরি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে বারী, রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক, রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহেদ আলী, স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান, রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মনোয়ারা বেগম, সমাজ কল্যান সম্পাদক মারুফ হোসেন, শ্রমিকনেতা সামছুল আলম, মাহবুবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান, মোঃ জাহেদুর রহমান, মোঃ শাহরিয়ার, মাহফুজুর রহমান, হোসেন শহিদ, এস কে মুজিব, মোঃ মেহেদি, মাকসুদুর রহমান বাবু, শরিফুল আলম, মাহফুজুর রহমান, মোঃ হানিফ, আবুল কালাম, কাউসার হোসেন, এনামুল হক, এহসান আলী, আব্দুল মালেক, মাহফুজুর রহমান বাবু, মনসুর আলম, আব্দুল আউয়াল, ফিরোজ আলম, কামাল উদ্দিন, ফাতেমা বেগম, মোঃ রফিকুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, সাবের হোসেন, মোঃ হোসেন, মোঃ হাসানসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে এম আর মঞ্জু বলেন- বন্ধুরা দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা রেলওয়ে ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যারা সম্পৃক্ত তারা ইতিমধ্যে বহুবার সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মিডিয়া ভাইদের মাধ্যমে আমাদের দাবীগুলো সরকারের সর্বোচ্চ মহলে পৌছানোর চেস্টা করেছি।কিন্তু জানি না দাবীসমূহ সর্বোচ্চ মহলে পৌছেছে কিনা?আমরা আশা করতে চাই জনগনের সরকার জনগনের পালর্স বুঝতে সক্ষম হবে।আজ শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের নায্যা দাবীর জন্য যেভাবে ফুসে উঠেছে, আমরা আশংকা করছি এখনো সচিবালয়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে শ্রমিকদের নায্য দাবীগুলো কলমের খোচায় বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেন না অনেক কর্মকর্তাগন ,আমরা জানি না তাদের কানে এই বার্তা পৌছাবে কিনা। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি শুধু রেল নয় সরকারের সকল সংস্থার কমর্চারীরা এই পে স্কেল নিয়ে ফুসে উঠেছে। আমাদের সর্বশেষ পে স্কেল ঘোষনা হয়েছিল ২০১৫ সালে আজ ১০ বছর হতে চললো, যেখানে আমাদের ২টি পে স্কেল পাওয়ার কথা আজও আমরা ১টির দেখা পেলাম না।আপনারাতো জনগনের সরকার আপনারা দিলে অসুবিধাটা কোথায়? আমরা জানি না আপনাদের ফ্যাসিস্টের রোগ ধরেছে কিনা, এই রোগ কিন্তু ভাল না,।এই রোগের চিকিৎসা কিন্তু দেশে হয় না।আমরা সাধারন শ্রমিক কর্মচারীরা এই জনগনের সরকারকে কোন বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাই না। আমরা দেখছি বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অতীতে লুটপাটের মহোৎসব চলেছে। কিন্তু যারাই সরকারের টুলস, যাদের বৃহৎ অংশের সহযোগিতায় সরকার পরিচালিত হয়, এমনকি আগামীতে যাদেরকে দিয়ে সুষ্ট নির্বাচন সম্পন্ন হবে, অথচ এই সরকার তাদেরকে অভূক্ত রেখে সফল হইতে চাইছে। পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে আগামী ৫ তারিখ ঢাকায় শ্রমিক কর্মচারীরা বৃহত্তর সমাবেশের ডাক দিয়েছে তাতে আমাদের শতভাগ সমর্থন রয়েছে।

রানিং স্টাফ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন-আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি কিছুদিন পূর্বে এই সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ঘোষনা করলেন যে এই সরকারের আমলে নাকি পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর নয়।আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই পে স্কেল নিয়ে আগামীতে ১৪ লক্ষ সরকারী কর্মচারীরা যদি কোন কর্মবিরতির ডাক দেয় তবে এর দায়়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারীতে যে নির্বাচন হবে তাতে এই পে স্কেলের কোন সুরাহা না হলে তাতে কোন পর্যায়ের কর্মচারীরা কাজ করবে না।আপনারা কিভাবে নির্বাচন করবেন, কিভাবে দেশ পরিচালনা করবেন সেটা আপনারা জানেন। আজ দ্রব্যমূল্যের উদ্ধগতিতে সরকারী কর্মচারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই বৃহৎ শ্রেনীকে অগ্রাহ্য করলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

কারিগরি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস কে বারী বলেন-আজ পে স্কেল নিয়ে সারাদেশের শ্রমিক কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ। আজ পে স্কেল নিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের ঐক্যজোটের ব্যানারে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সিআরবিতে। কিন্তু দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি এখানে কর্মরত অনেক কর্মচারীরা এখানে উপস্থিত না হয়ে অফিস করে চলেছেন। আফসোস এই পে স্কেলের দাবী আজ সকল শ্রেনীর কর্মচারীদের প্রানের দাবী। এই দাবী বাস্তবায়ন না করে আমরা শ্রমিক কর্মচারীরা ঘরে ফিরবো না।

রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক বলেন-সংগ্রামী শ্রমিক কর্মচারীবৃন্দ আপনারা জানেন এই সরকার পে স্কেল কমিশন গঠন করেছে।কিন্তু গত সপ্তাহে এই সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হঠাৎ ঘোষনা করলেন এই সরকার নাকি পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে না। কিন্তু আমাদের দাবী আগামী ১লা জানুয়ারী থেকে আমাদের পে স্কেল ঘোষনা করতে হবে। তাছাড়া পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের সুবিধা আমরা ফেরত চাই।তাছাড়া বিভিন্ন ভাতাদি যেমন শিক্ষা ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও রেশনের সুবিধাদি বৃদ্ধির জোর দাবী জানাই।

Advertisement