নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবেঃ জেলা প্রশাসক

57

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, নারী ও কন্যাশিশুসহ যারা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এবং তাদের প্রতি যারা সহিংসতা ঘটাচ্ছেন তারা আমাদেরই কোনো না কোনো পরিবারে বসবাস করেন। বিভিন্ন সভায় মুখে ভালো ভালো কথা বলে এসব সহিংসতা প্রতিরোধ করা যাবে না। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের জীবনে নৈতিকতা চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আজ ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়-‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভার পূর্বে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সার্কিট হাউজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, ইপসা, প্রত্যাশী, ঘাসফুল, ইলমা, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, কারিতাস, ব্র্যাক ও বিটাসহ অসরকারী উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং প্রশিক্ষণার্থীগণ র‌্যারি ও আলোচনা সভায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সবাইকে আত্মসচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলখানায় প্রায় তিন হাজার মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শাস্তিভোগ করছেন কিন্তু তাতে তো মাদকাসক্তের সংখ্যা কমছে না। সব সময় আইন প্রয়োগের মাধ্যমেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা নিজেদেরকেই নিজ নিজ চরিত্র সংশোধন করতে হবে। তিনি আগামী প্রজন্মকে সঠিক নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য পূর্বসূরিদের সঠিক ব্যাক্তিত্ব ও নৈতিকতা প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও অসরকারী উন্নয়ন সংস্থা-ইপসা’র প্রোগ্রাম অফিসার ফারহানা ইদ্রিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ ফরিদুল আলম ও শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন।

বক্তব্য রাখেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশীর প্রধান নির্বাহী মনোয়ারা বেগম, মানবাধিকার কর্মী ও ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু ও স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিকদার। ব্র্যাক, ইপসা, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, ঘাসফুল, বিটা, সিডিসি, উষা নারী উন্নয়ন সংস্থা, ওয়াইএএসডি, কারিতাসের কর্মকর্তাগণ এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি পরিবারে পুত্র সন্তানের বিয়ের পরে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে পরিবারের নারীদের উপর যেন এর দায় না বর্তায় সেজন্য নারীদের সচেতনতা আবশ্যক।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে এ সংক্রান্তে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রতিবন্ধী নারী এবং প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ, গণপরিবহণ, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও কার্যকর করা, পরিবারের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিজ পরিবারে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন বক্তারা। গত দশ মাসে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার তথ্য উপস্থাপন করে সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মতামত প্রদান করেন বক্তারা।

Advertisement