আজ মহান ১০ মাঘ, লাখো ভক্তের পদচারনা মাইজভাণ্ডার দরবারে

147

এম এস আকাশ, ফটিকছড়িঃ চলরে মন ত্বরায় যায় বিলম্বের আর সময় নাই, গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুলেছে….

Advertisement

লাখো আশেক, ভক্ত, অনুরক্তরা আসছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। সাথে সবুজ পতাকা ও ব্যানারে তরিক্বতের বিভিন্ন বানী। আল্লাহ, রাসুল (দ.) ও মাইজভান্ডারী তরিক্বতের শ্লোগান। সাথে স্বীয় পীর মুরশীদের দরবারে হাদিয়া। মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের আধ্যাতিক সরাপতের প্রতিষ্টাতা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (ক.) ১২০তম বার্ষিক ওরশ শরীফ আজ শনিবার মহান ১০ মাঘ। গত ২-৩দিন পূর্ব থেকে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাইজভান্ডার শরীফে।

পটভূমি:
সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ী ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করে পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তারই বংশধর মাওলানা সৈয়দ মতিউলাহর সৈয়দ মতিউলাহর পবিত্র ঔরসে ১৮২৬ সালে, হিজরী ১২৪৪, ১২৩৩ বাংলা ১লা মাঘ, বুধবার জোহরের সময় হযরত শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) জন্ম গ্রহন করেন। ১২৬০ হিজরিতে তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতা গমন, ১২৬৮ হিজরিতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এবং হাদিস, তাফসির, ফেকাহ ইত্যাদি শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১২৬৯ হিজরিতে যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে সেই কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেস পদে যোগদান করেন। তার পীর গাউছুল আজম মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানীর (রহ.) বংশধর শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহ.) এর নিদের্শে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন।

কিছু দিনের মধ্যেই তার কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী-প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশীদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় মাইজভান্ডার দরবার শরিফ হিসেবে। তিনি একমাত্র বাঙ্গালী সূফী সাধক। যিনি বাংলার জমিনে স্বতন্ত্র এক তরিকা প্রতিষ্টা করেন। যার নাম মাইজভান্ডারী তরিকা। ৭৯ বছর বয়সে ১৯০৬ ক্রিস্টাব্দে ১০ মাঘ সোমবার রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন এ মহান সুফি সাধক। তার ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিনব্যাপী ওরশ শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের লাখ-লাখ আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে।

গতকাল শুক্রবার মাইজভান্ডার শরীফ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় ১০মাঘ মাইজভান্ডার শরীফের ওরশ উপলক্ষ্য করে মাইজভান্ডারের ৩/৪ মাইল এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। এতে কৃষি ব্যবহার্য্য পণ্য, কুঁটির শিল্প উৎপাদিত পণ্য, গ্রামীণ গৃহস্থালী সামগ্রী, ডালা, কুলা দা, বটি, বেলুণ, কাঠের পিড়া, মোড়া, পিটা তৈরীর বিভিন্ন চাচ, চুড়ি, বাশি খেলনা, মোলা-ওড়া ইত্যাদিবেশ বিকিনিকি হচ্ছে।

শতাদিক বৎসরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর এই মহান অলীর ওফাত (তিরোধান) দিবসের স্মরণে বংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, ইরান, তুরষ্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশ হতে আগত লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুরক্ত আশেকের সমাগমে মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হবে।

গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ট্রাষ্ট পরিচালনাধীন প্রতিষ্টান ও অছি-এ-গাউসুল আজম মাওলানা শাহসুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কর্তৃক মনোনীত মোন্তাজেম, সাজ্জাদানশীন ও জিম্মাদার আওলাদসহ মাইজভান্ডারের প্রতিটি মনজিল এবছর ১ মাঘ থেকে ১০ দিন ব্যাপী মাইজভান্ডারী তরিকার মানবিক শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কর্মকান্ড, এবাদতবন্দেগী, মাইজভান্ডারী সেমা মাহফিলসহ ব্যাপক আয়োজন করেছে।

এদিকে ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা ও থানা প্রশাসন ব্যাপক আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

দরবারে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহজাদা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইনন সোহেল মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে শরীফে আমরা ১০দিন ব্যাপী হযরতের মানবিক গুনাবলীর সমন্বয়ে মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছি।

শাহ এমদাদীয়ার নায়েবে শাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো ভক্তের সুবিধাত্বে থাকা-খাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)র জীবনী, শান-মান সম্ভলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যবস্থা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় মাইজভান্ডার ১০ মাঘ ওরশের ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হযেছে।

Advertisement