ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজি দিঘী মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— চা শ্রমিক যোগেশ উড়ংয়ের ছেলে উত্তম উড়াং (১৭), রাম উড়ংয়ের ছেলে নয়ন উড়াং (১৬) এবং তপন উড়ংয়ের ছেলে তপু কর্মকার (১৬)। তারা সবাই উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল রাঙ্গাপানি গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত উত্তম উড়াংয়ের পিতা যোগেশ উড়াং হতবিহ্বল কণ্ঠে জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় তারা রাজমিস্ত্রির যোগালি হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আজ তারা লাশ হয়ে ফিরলো।
নিহত নয়ন উড়াংয়ের মামা রুপম উড়ং বলেন, নিহত তিনজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা নাজিরহাট-বারৈয়ারহাট এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মিনহাজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত বাসটি মানিকছড়ি থেকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পশ্চিম পাশে ছিটকে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহীদের রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ২০ জনের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

















