নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত সেবা দিতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মীর হেলাল

15

দেশের জনগণকে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, এমপি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সঠিক ভূমি জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে ভূমি খাতের দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

Advertisement

গতকাল রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রেডিসন ব্লু অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, এদেশের প্রকৃত মালিক হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। নাগরিকরা যেন নিজেদের সেই মালিকানার মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

এক্সপোতে প্রদর্শিত পরিবেশবান্ধব ইটের প্রতি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ ও মাটির উর্বরতা রক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়মনীতি না মেনে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো দেশের উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) ব্যাপকভাবে ধ্বংস করছে। এই ক্ষতিকর ধারা বন্ধ না হলে মাটির ফসল ফলানোর ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাবে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

সীমিত আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কৃষিজমি রক্ষাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কৃষিজমি নষ্ট করে অবকাঠামো নির্মাণ থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে। এর বদলে নির্মাণশিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও খাতগুলোকে টেকসই, সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে এগিয়ে আসতে হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

দেশের স্বার্থকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শুধু লাভের চিন্তা না করে দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে নিজ নিজ জায়গা থেকে ইতিবাচক অবদান রাখতে হবে।

পরিকল্পিত ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে স্থপতি এবং প্রকৌশলীদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, উন্নয়ন মানেই শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নয়; উন্নয়নকে হতে হবে সুপরিকল্পিত, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব। এই দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলে একত্রিত হয়ে কাজ করলেই আমরা বাংলাদেশকে আরো আধুনিক ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারব।

চট্টগ্রামে এই ধরনের তথ্যবহুল ও যুগোপযোগী মেলা আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটসহ আয়োজক সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এই প্রদর্শনী নতুন প্রযুক্তি ও সচেতনতা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, খ্যাতনামা স্থপতি, প্রকৌশলী, দেশের উদীয়মান স্থপতি, প্রকৌশলী, দেশের উদীয়মান উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement