আফগানিস্তানের সাবেক মন্ত্রী এখন জার্মানিতে ডেলিভারি ম্যান

446

গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে পাড়ি জমান সৈয়দ সাদাত। ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাইপজিগে এখন তার বাস। আফগানিস্তানে তিনি ছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী। কিন্তু জার্মানিতে এখন পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন তিনি।

Advertisement

২০১৮ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগে দুই বছর আফগান সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

৪৯ বছর বয়সী এই আফগানকে এখন কমলা ইউনিফর্ম পরে বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি বাড়ি পার্শ্বেল পৌঁছে দিতে হয়।

সাদাত বলেন, এখন এ ধরনের কাজ করায় তার পরিবারের অনেকেই তার সমালোচনা করেন। তবে এখন আমার কাছে কাজ মানে কাজই। আমার আফসোসে ভোগার কোনো কারণ নেই।

সাদাত বলেন, আমি আশা করি আফগানিস্তানের অন্য রাজনীতিকরাও একই পথ অনুসরণ করবেন, পালিয়ে না থেকে বরং মানুষের সঙ্গে কাজ করবেন।

আফগানিস্তান ফের তালেবানের দখলে যাওয়ার পর সাদাতের এ গল্প অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। তার পরিবার ও বন্ধুরাও দেশ ছেড়েছেন বা ছাড়তে চাইছেন। অনেকে আশা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন, হয়ত অন্যদের সঙ্গে আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে যাওয়ার একটি ফ্লাইটে তারা চড়তে পারবেন, অথবা অন্য কোনো পথ খুঁজে নিতে পারবেন।

জার্মানির অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার ঠিক আগে এ বছরের শুরু থেকে সেখানে আফগান আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বেড়েছে।

মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা থাকার পরও জার্মানিতে ভালো একটি কাজ খুঁজে পেতে সাদাতকে বেগ পেতে হচ্ছে, যা তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে।

আইটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ে ডিগ্রি থাকায় সাদাত আশা করেছিলেন, সেরকম কোনো ক্ষেত্রে একটি চাকরি তিনি হয়ত পেয়ে যাবেন। কিন্তু জার্মান ভাষা জানা না থাকায়, তেমন সুযোগ খুবই সীমিত।

ব্রিটেনের নাগরিকত্বধারী সাদাত বলেন, এখানে ভাষাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য প্রতিদিন বিকেলের পালায় ছয় ঘণ্টার কাজ শুরুর আগে তিনি চার ঘণ্টা জার্মান ভাষা শেখেন। এই গ্রীষ্মে তিনি লিফেরানডোর হয়ে খাবার সরবরাহের কাজটি শুরু করেছেন।

শহরের ব্যস্ত ট্রাফিকের মধ্যে বাইসাইকেলে খাবার সরবরাহ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই সাবেক আফগান মন্ত্রী বলেন, প্রথম কয়েকটি দিন কঠিন ছিল। তবে আপনি যতই বাইরে যাবেন এবং মানুষজন দেখবেন, ততই আপনি শিখবেন।

Advertisement