চবি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা নিরসনের দাবী সুজনের

226

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা নিরসনের দাবী জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement

আজ মঙ্গলবার (৩১ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি চবি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা নিরসনের দাবী জানান।

এসময় তিনি বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ। চট্টগ্রাম শহর থেকে একটু দূরে প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর পাহাড়ি পরিবেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে তৈরি হয়েছে অসংখ্য জ্ঞানী। দেশে বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে চবি’র সুনাম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। গবেষণা, শিক্ষকতা, চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজনীতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শাটল ট্রেন। যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধানতম বাহন হিসেবে অত্যধিক পরিচিত। দেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শহর থেকে শাটল ট্রেনে করে সচরাচর যাওয়া আসা করে পড়ালেখা করে থাকে। শাটল ট্রেনের পাশাপাশি গণপরিবহনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়ার মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের চর্চা করে থাকে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছে হাজারো শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনগুলো প্রায়শই নষ্ট থাকে। বিআরটিসি বাস সার্ভিস কিছুদিন চলাচল করলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ফলত চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা গুটি কয়েক গণপরিবহনের উপর নির্ভর হয়ে আসা যাওয়া করছে। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা রাখলেও বর্তমানে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বেসরকারি যে সকল গণপরিবহন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট পর্যন্ত যাওয়া আসা করে সেগুলোর অধিকাংশেরই সিট ছেড়া, গাদাগাদি পরিবেশে প্রায়শই দাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। ছাত্রীদের আসা যাওয়ার সমস্যা অত্যন্ত প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গণপরিবহনে আসা যাওয়া করতে গিয়ে ছাত্রীদের বিভিন্ন রকমের ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অনেক সময় ইভ টিজিংসহ নানা ধরণের হেনস্থার শিকার হতে হয়ে ছাত্রীদের। এছাড়া শাটল ট্রেনে পাথর ছোড়ার ফলে সম্প্রতি বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশের একটি অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য যাতায়াত করতে হয় যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়ালেখার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করছেন যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। তারপরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে একেক সময় একেক পরিস্থিতির সম্মূখীন হতে হয় যা হৃদয়ে ক্ষরণ সৃষ্টি করে বলে মত প্রকাশ করেন সুজন।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে চবির ফ্যাকাল্টির সংখ্যা, হলের সংখ্যা, অনুষদের সংখ্যা বেড়েছে। সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনিস্টিটিউটও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলত ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিধি পূর্বের তুলনায় অনেকাংশে সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা নিরসনে শাটল ট্রেনে একাধিক বগি সংযোজন, বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুসহ মানসম্মত বিভিন্ন বেসরকারি গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট জোর দাবী জানান।

Advertisement