বিশ্বপ্রাণ ও বিশ্বসত্তার অধ্যাত্ম স্মারক তপস্যাক্ষেত্র সীতাকুণ্ড শঙ্কর মঠের স্থপতি যোগতত্ত্ববিদ শ্রীশ্রীমৎ ১০৮ স্বামী ব্রহ্মানন্দ পরমহংসদেবের আবির্ভাব ও তিরোধান তিথি উৎসব আজ ১৬ জুন শুক্রবার যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে মঠ প্রাঙ্গনে উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচীর মধ্যে ছিল-মঙ্গলারতি, গুরুবন্দনা, প্রার্থনা সঙ্গীত, সকল মহারাজের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান, শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠ, মাতৃবন্দনা, শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ, হরি ওঁ কীর্ত্তন, দীক্ষানুষ্ঠান, ভোগরাগ, পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যোগসঙ্গীত, প্রসাদ বিতরণ ও স্বামী ব্রহ্মানন্দ পরমহংসদেবের সৃষ্টিতত্ত¡ বর্ণন বিষয়ক সনাতন ধর্মসম্মেলন। শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ পরিচালনা ও ধর্মসভায় পৌরহিত্য করেন সীতাকুণ্ড শঙ্কর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ। মঠের সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্ত-শিষ্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি শেষে বেদমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সনাতন ধর্মসম্মেলনে শঙ্কর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, বিশ্বজনীন ধর্মগ্রন্থ শ্রীশ্রীমদ্ভগবত গীতার কর্ম-জ্ঞান ও ভক্তি মানুষকে বিভিন্ন অপকর্ম থেকে বিরত রাখে। ধর্ম চেতনা ও ধর্মবোধ মানুষকে সত্য সনাতন সুন্দরের পথে পরিচালিত করার ফলে সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচার দূরীভূত হয়। এখানে মঠ-মন্দির শুধু ধর্ম চর্চার সাধনা করে না। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, আধ্যাত্বিক জীবন চর্চার মহাতীর্থপীঠ শঙ্কর মঠ ও মিশন। নিষ্কাম কর্ম ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ থেকে উত্তরণের জন্য মনুষ্যত্বের সাধনা করাই হলো গীতা শিক্ষা। ধর্মবোধ মানুষকে ন্যায়ের শিক্ষা দিয়ে সভ্য করেছে। তাই গীতার আদর্শ ও উদ্দেশ্য বুকে ধারণ করতে পারলে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ হবে।

















