চট্টগ্রামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ গুণ বেশি দামে!

103

‘কৃষি বিপণন আইন ২০১৮’ অনুযায়ী পণ্যভেদে উৎপাদন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ২০ শতাংশ লাভের বিধান রয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে উৎপাদন খরচের চাইতে ২০০ থেকে ২৩০ গুণ বেশি দামে।

Advertisement

সোমবার (১৮ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার তরমুজের পাইকারি আড়তগুলোতে জেলা প্রশাসনের অভিযানে এ চিত্র উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব প্রতীক দত্ত বলেন, ‘পাইকারি আড়তগুলোতে তরমুজের ক্রয় বিক্রয় রশিদ, মূল্যতালিকা ও রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হয়। এসময় উপস্থিত কৃষক এবং আড়ত মালিকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, গড়ে প্রতি ১০০ তরমুজের উৎপাদন খরচ ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেখানে উৎপাদন পর্যায়েই তরমুজগুলো গড়ে ১৫ হাজার এবং পাইকারি পর্যায়ে ২০ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে অর্থাৎ প্রতিটি তরমুজের উৎপাদন খরচ ১০০ টাকা হলেও সেগুলো আড়তে সর্বোচ্চ ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে তরমুজপ্রতি (৫-৭ কেজি) উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৫-৪০ টাকা। কৃষক সাধারণত বিক্রি করছেন ৮৫-১০০ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে সর্বোচ্চ দাম হতে পারে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।’

এ অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর জন্য আড়তদারদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয় এবং ক্রয়-বিক্রয় রশিদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় ইসলাম ট্রেডার্সকে ৫ হাজার এবং মদিনা ফার্মকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘বাজারে আমাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত আছে। চিনি, চাল, এলাচ, সেমাই, খেজুর, তরমুজসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বাজারে এরই মধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। ভেজালবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন। কোনোভাবেই বাজারকে অস্থিতিশীল করা যাবে না।’

এ অভিযানে সহায়তা করেন সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তরমুজের মূল্যতালিকা ও ক্রয় ভাউচার না থাকায় এ জরিমানা করা হয়।

Advertisement