চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন করার দাবিতে সাবেক ছাত্রদল নেতার একক অবস্থান

597

দিন দিন প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, সংকুচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার কারণে প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। শুধু ঈদুল ফিতরের প্রথম তিন দিনেই মহাসড়কের একই স্থানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। নিঃস্ব হয়েছে দুটি পরিবার, আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। বাবা-মা হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে এক শিশু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকেই।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে মহাসড়কটি চার লেনে পরিণত করার দাবিতে রোববার (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল।

দুপুর তিনটার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে সৌরভ বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে আমার এই একক অবস্থান। প্রতিদিন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সজাগ হবো?”

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা চাই অবিলম্বে মহাসড়কটি ছয় লেনের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে চার লেনের কাজ শুরু হোক। টানেলের চেয়েও বেশি প্রয়োজন ছিল এই সড়কের উন্নয়ন। কালুরঘাট সেতুর কাজ শুরু হলে যানচাপ আরও বাড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। এটি এখন শুধু দক্ষিণ চট্টগ্রামের দাবি নয়, এটি একটি জাতীয় দাবি।”

গত ২ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি নিজ হাতে ১১টি লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেলে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। তাদের কান্না, আর্তনাদ আমার কানে এখনো বাজে। আহত প্রেমা, আরাধ্য ও দুর্জয়কে হাসপাতালের বেডে ছটফট করতে দেখেছি। শিশু আরাধ্যা এখনো ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা আর কোনো লাশ দেখতে চাই না। আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই।”

অবস্থান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত কালোব্যাজ ধারণ করে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নিহতদের স্মরণে এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য চট্টলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement