চবি এবং চীনের ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির শুভ সূচনা

378

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC)-এর আয়োজনে আজ (২১ জুলাই ২০২৫) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সিনেট কক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ (Academic Exchange) কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়েছে।

Advertisement

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

চীনের ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রফেসর ড. লুও হুয়া সং লাওসি, হং জুহুয়া এবং পিএইচডি গবেষক ঝাং লিয়াংবিং, দেং শিইউ, ঝোউ মেইচি ও সান গুইকুয়ান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন IQAC-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন। চীনা প্রতিনিধিদের বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্ট্রাক্টর জনাবা আয়েশা ফারলীন।

উপাচার্য তাঁর সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “চীন বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নতুন নয়; বরং এ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও ফলপ্রসূ করতে হবে।” তিনি বলেন, “চীনের ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একাডেমিক চুক্তি হলে আমরা গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় অনেক এগিয়ে যেতে পারব। শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হলে একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।” তিনি আরও বলেন, “চীন এখন অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন যে, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ মুহাম্মদ আবুল ফায়েজের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে, চীনা শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উপাচার্য তাঁদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) চীনা প্রতিনিধি দলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক অতীতের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি দৃঢ়। তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত।”

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) চীনা গবেষকদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “চীনা শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ একাডেমিক সহায়তা প্রদান ও অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।” তিনি আরও বলেন, “চীন বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী—এ জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) সংক্রান্ত কার্যক্রম আমাদের দুই দেশের জন্যই গঠনমূলক হতে পারে। এটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই—তা হলো বিদেশি ঋণগ্রহণ, বিশেষত চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ বিষয়ে আরও সংবেদনশীল ও ন্যায্য চুক্তি করা জরুরি। যাতে বাংলাদেশ অপ্রয়োজনীয় ঋণের বোঝায় না পড়ে বা সম্ভাব্য ঋণের ফাঁদে না জড়ায়। আমি আশা করি, এই বার্তাটি চীনা কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেবে এবং ভবিষ্যতের চুক্তিসমূহ আরও নমনীয় ও সহযোগিতামূলক হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement