চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ

240

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ-২০২৫ (রচনা, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা) অনুষ্ঠান (২৩ জুলাই ২০২৫, বুধবার) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চবি আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার এবং চবি শাহজালাল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. ফুয়াদ হাসান।

চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জনাব নাসিমা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক সামিনা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম মোস্তফা সরকার। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, চবি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মনজুরুল আলম ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক অশোক কুমার দাশ। অনুষ্ঠানে চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যালামনাই চবি আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসমা বিনতে শফিক, চবি জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. নাজনীন নাহার ইসলাম এবং অ্যালামনাই মোস্তফা আলম (বাদল) উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি চবি উপাচার্য বলেন, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে অতীত গৌরব হারিয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ স্কুলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন দৃশ্যমান কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের গৌরব ফিরিয়ে আসবে।

উপাচার্য শিক্ষকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আপনাদেরই সন্তানতুল্য। তাদেরকে অত্যন্ত যত্নসহকারে পাঠদানের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব ও কর্তব্য আপনাদের। তাদেরকে যোগ্য ও সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অবদান রাখতে পারবে। উপাচার্য এ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) বলেন, চবি উপাচার্য আমাকে এ প্রতিষ্ঠানের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে দায়িত্ব দিয়েছেন বিগত দশ মাস আগে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এ প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না। তিনি আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি ছিল না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত কিছুদিন আগে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আনতে সক্ষম হয়েছি।

উপ-উপাচার্য এ প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক শৃঙ্খলা ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের মাধ্যমে আগামীতে এ প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শত ভাগ উত্তীর্ণের মাধ্যমে চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গৌরব পুনরুদ্ধার করা হবে। উপ-উপাচার্য লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে, জুলাই গণআন্দোলনে শহীদ ও অন্যান্য শহীদদের শান্তি কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement