গতকাল (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, “যদি শিবির দেখতে চান, শিবিরের আচার-ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেখতে চান তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান।” তার এই মিথ্যা, উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ (২৪ এপ্রিল, বৃহস্প্রতিবার) ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেন, “দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, নৈতিকতাবোধ জাগ্রতকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নানা আয়োজনের মাধ্যমে চবি ছাত্রশিবির সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা ৫ আগস্ট পরবর্তী ক্যাম্পাস সচল হওয়ার পর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ২৪ দফা দিয়ে নতুন প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের সমস্যাসমূহ সমাধানের দাবি জানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে ‘চবি সংস্কারে সাত দফা’ দাবির প্রেক্ষিতে ছাত্রশিবির বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কল্যানে কাজ করে যাওয়া।
নেতৃবৃন্দ যোগ করেন, “আমরা হলভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, নবীনবরণ, সীরাত মাহফিল, কুরআন বিতরণ, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম, প্রকাশনা উৎসব, মাহে রমাদান উপলক্ষে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২০ দিনব্যাপী গণইফতার ও দারসুল কুরআন কার্যক্রম, প্রোডাক্টিভ রমাদান সেমিনার, শিবির মিটস ব্রিলিয়ান্স, কুরআন অলিম্পিয়াড, বইপাঠ প্রতিযোগিতা, নিয়মিত কুরআন শিক্ষা কোর্স, ফলচক্র, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত ভোজ, জুলাই গ্রাফিতি এবং জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে নানা আয়োজনসহ ছাত্রকল্যাণ ও ছাত্র-অধিকার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছি।”
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের মন্তব্য কেবল ইসলামী ছাত্রশিবির নয়, বরং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল। আমরা তার এ বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। স্বৈরাচারী ও দমন-পীড়নমূলক শাসনামলেও নানা অপবাদে জড়িয়ে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখে এ ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।”
আমরা তার বক্তব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করে দুঃখপ্রকাশের করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি রাজনীতিতে শালীনতা, শিষ্টাচার, সত্যনিষ্ঠা ও ঐক্য বজায় রাখতে আমরা সকল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
















