কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ এলাকা এখন সুশৃঙ্খল। এক সময় অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কাজ শেষে বাড়ি ফেরা মানুষ, আর কক্সবাজার কিংবা বান্দরবানগামী পর্যটকদের ভিড়ে দিনভর ব্যস্ত থাকে এই রুট। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সড়কের জায়গা দখল করে দোকান বসানো এবং গোল চত্বর দখল করায় যানজট লেগেই থাকতো। সম্প্রতি ট্রাফিক পুলিশের সাথে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছে কিছু শিক্ষার্থী। ট্রাফিক বিভাগ ও ছাত্রদের কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত তদারকির ফলে নতুন ব্রিজে এখন আগের সেই যানজট নেই। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ বাড়ি ফিরছে স্বাচ্ছন্দ্যে। পর্যটকদের নেই আর নতুন ব্রিজের ভয়ানক যানজটের চিন্তা। যানজটমুক্ত করে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ ৩ নভেম্বর সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নতুন ব্রিজ গোল চত্ত¡র এলাকায় কোন যানজটের চিত্র চোখে পড়েনি। ট্রাফিক পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টায় কোনও গাড়ি প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করেনি। এভাবেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নতুন ব্রিজ এলাকায় যৌথভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
যাত্রী ও স্থানীয়রা বলেন, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সড়কের জায়গা দখল করে দোকান বসানো এবং গোল চত্বর দখল করায় যানজট লেগে থাকতো। পুলিশের আন্তরিকতা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণে এখন যানজট নেই বললেই চলে।
কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়া একদল যুবক বলেন, কক্সবাজার যেতে হলে আমাদের নতুন ব্রিজ পার হতে হয়। কিন্তু এখানে অনেক সময় ধরে আটকে থাকতে হতো। এতে ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি হয়ে যেত। এখন যানজট নেই। কয়েক মিনিটেই নতুন ব্রিজ পার হয়েছি।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশনা মতে বাকলিয়া ও নতুন ব্রীজসহ এই ট্রাফিক জোনের অধীনস্থ সকল এলাকায় সড়ক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ট্রাফিক পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টায় কোন গাড়ি আর প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করতে পারছে না। এলাকাগুলোকে সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
সিএমপি’র ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের টিআই (প্রশাসন) সুশোভন চাকমা ও টিআই (বাকলিয়া) মোঃ তুহিন বলেন, নিরাপদ সড়ক আমাদের সকলের কাম্য। যানজট নিরসন সড়ক সকলের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ট্রাফিক বিভাগ ও পুলিশের সহায়তাকারী হিসেবে ছাত্ররাও কঠোর পরিশ্রম করার কারণে নতুন ব্রিজে এখন আগের মতো যানজট নেই। ফলে মানুষ নির্ধারিত সময়ে তাদের গন্তব্যস্থলে ফিরতে পারছে।

















