জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই: চসিক মেয়র

43

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়; নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

Advertisement

রবিবার নগরীর ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী, ২৬ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী ও ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে পরিচালিত জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, “নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার পরও যদি যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্য ফেলা হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তাই নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।”

তিনি জানান, গুলজারখাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুইস গেট নির্মাণকাজের কারণে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়াসহ আশপাশের কিছু এলাকায় পানি জমে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

মেয়র আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্লুইস গেট নির্মাণ শেষ হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “গত বছর আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছি। চলমান খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজ শেষ হলে নগরবাসী আরও সুফল পাবে।”

এ সময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে মেয়র বলেন, “পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা একটি সামাজিক দায়িত্ব।”

প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, প্রতি সপ্তাহে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ ও নালা পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে তা একসময় গণআন্দোলনে পরিণত হবে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের সব শহর আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

Advertisement