টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল শিরোপা জিতল বেঙ্গালুরু

30

গত আসরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতে আরও একটি শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের খাতায়। অধিনায়ক রজত পাতিদারের নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে বড় মঞ্চে সাফল্য পেল দলটি। গত আসরের আগে দায়িত্ব পাওয়া পাতিদার অল্প সময়েই নিজেকে সফল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Advertisement

ফাইনালে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ইঙ্গিত দিলেও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি গুজরাট টাইটান্স। বেঙ্গালুরুর পেসারদের পরিকল্পিত শর্ট বলের বিপক্ষে বারবার বিপদে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক শুভমান গিল থেকে শুরু করে সাই সুদর্শন, নিশান্ত সিন্ধু, রাহুল তেওয়াটিয়া, জেসন হোল্ডার ও রশিদ খান— সবাই একই ধরনের বলে উইকেট হারান। প্রথম চার ব্যাটারের কেউই বিশ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি।

শুরুতে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেললেও দ্রুত বিদায় নেন গিল ও সুদর্শন। তিন নম্বরে প্রোমোশন পাওয়া নিশান্ত কিছুটা সম্ভাবনার আভাস দিলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অন্যদিকে জস বাটলারও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পাওয়ার প্লে’র শেষ বল থেকে ত্রয়োদশ ওভারে একটি ছক্কা আসার আগে পর্যন্ত টানা চল্লিশ বল কোনো বাউন্ডারি আদায় করতে পারেনি গুজরাট।

শেষদিকে ওয়াশিংটন সুন্দর একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩৭ বলে অপরাজিত অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় গুজরাটের সংগ্রহ থামে ১৫৫ রানে। এমন পুঁজি নিয়ে শিরোপা জিততে হলে বোলারদের অসাধারণ কিছু করতে হতো।

কিন্তু রান তাড়ায় নেমেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। ভেঙ্কাটেশ শুরু থেকেই গুজরাটের বোলারদের ওপর চড়াও হন। দ্বিতীয় ওভারেই কাগিসো রাবাদাকে একের পর এক বাউন্ডারিতে চাপে ফেলেন তিনি। অন্য প্রান্তে বিরাট কোহলিও দ্রুত ছন্দ খুঁজে পান। প্রথম চার ওভারেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ হয়ে যায়।

ভেঙ্কাটেশ বিদায় নেয়ার পর কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল গুজরাট। রশিদের জোড়া আঘাতে ম্যাচে সামান্য রোমাঞ্চ ফেরে। তবে কোহলি ছিলেন অবিচল। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে ২৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি, যা আইপিএলে তার দ্রুততম অর্ধশতক। টিম ডেভিডের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের জয়ের ভিত আরও মজবুত করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

শেষদিকে কোহলির একটি ক্যাচ নিয়ে সাময়িক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল। মাঠের আম্পায়ার আউটের ইঙ্গিত দিলেও পুনরায় দেখার পর দেখা যায় গিল ধরার সময় বলটি মাটি স্পর্শ করেছিল। জীবন ফিরে পাওয়া কোহলি আর কোনো সুযোগ নষ্ট করেননি। অষ্টাদশ ওভারের শেষ দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করেন তিনি। অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই। মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে ১৬ ইনিংসে ৬৭৫ রান করে কোহলি শেষ করেন চতুর্থ সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হিসেবে।

Advertisement