৬৪ সেকেন্ডের গোলে তুরস্ককে বিদায় করল প্যারাগুয়ে

34

সান ফ্রান্সিসকোতে চোখের পলক ফেলার আগেই হলো গোল। বক্সের বাইরে থেকে মাতিয়াস গালারজা চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল করেন ৬৪ সেকেন্ডে। তারপর পুরো ম্যাচে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল প্যারাগুয়ে। শেষ অর্ধে পুরোটা সময় তারা একজন কম নিয়ে খেলল। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও মিনিটখানেকের মধ্যে খাওয়া গোলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হার দেখল তুরস্ক।

Advertisement

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মিগুয়েল আলমিরন লাল কার্ড দেখেন ‘অস্বাভাবিক’ কারণে। এই বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়মের বলি হয়েছেন তিনি। মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাতেই মার্চি অর্ডার পান। বিরতির আগে ১০ জনের দল হয় প্যারাগুয়ে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়ে খেলেও তুরস্কের মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকিয়ে জয় আদায় করে নেয় প্যারাগুয়ে। অথচ বল পজেশনে রাখা, গোলে শট নেওয়া কিংবা এক্সপেক্টেড গোলের পরিসংখ্যানে যোজন যোজন পিছিয়ে ছিল তারা। মূলত গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল পাঁচটি সেভে দলকে বাঁচান।

প্যারাগুয়ের অর্ধে তুরস্ক ৩২টি শট নেয়, বিপরীতে প্যারাগুয়ের ছিল সাতটি। এর মধ্যে তুর্কিরা পাঁচটি শট গোলে রেখেছিল, সবগুলো রুখে দেন গিল। আর প্রথম গোলের পর একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল প্যারাগুয়ে।

৭৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তুরস্ক। বড় কোনো সুযোগ নষ্ট তাদের করতে হয়নি। ৩টি বড় সুযোগ নষ্ট করে তুর্কিরা। পরিপূর্ণ পাস ছিল ৫৫৯টি, বিপরীতে প্যারাগুয়ের ৯৫টি। তুরস্কের এক্সপেক্টেড গোল ছিল ২.১২, প্যারাগুয়ের ০.৩২! এক কথায় পুরো ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তুরস্কের, কিন্তু ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষণ তৈরি হয়েছিল এক মিনিট ৪ সেকেন্ডেই। তাতে দারুণ এক ম্যাচ খেলেও বিদায় নিতে হলো তুরস্ককে।

২০০২ সালে চমক দেখিয়ে সেমিফাইনাল খেলা দলটি ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশা নিয়ে ছিটকে গেল। প্রথম ম্যাচ তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল। দুই ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের। আর প্যারাগুয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে টিকে থাকল। সমান পয়েন্টে দুই নম্বরে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।

Advertisement