‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা শিশু একাডেমির উদ্যোগে শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
আজ ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা থেকে সারাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
চট্টগ্রাম প্রান্তে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মাসুদ আলম, রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক ও সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মুহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ কাউছার আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামান, জেলা মহিলা বিষয়ক উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী, জেলা শিশু একাডেমির প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থী-কর্মচারী।
সরকারী শিশু পরিবার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিশুরাসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শ্রবণ করেন। শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রান্তে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম প্রান্তের অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীদেনের বাংলাদেশ। তাদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যেক শিশুর হাসিমুখ আমরা দেখতে চাই-এ জন্য যা যা করণীয় তা আমরা করবই। আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা তাদেরকে নিয়ে নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়তে চাই। শিশুদেরকে কোন ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়া চলবে না। তাদেরকে আদর, যত্ন, ভালোবাসার বন্ধনে দেখতে হবে। মানবিক ও আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য শিশুদেরকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। যে সকল শিশু বড়দেরকে সম্মান করবে, পিতা-মাতার প্রতি যত্ন নেবে, সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হবে, তারাই আগামীতে আলোকিত মানুষ হয়ে আলোকিত বাংলাদেশ গড়বে।
শিশুদের উদ্দেশ্যে ডিসি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ ও দেশকে সুন্দর করতে চাইলে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমরা যে বাড়িতে বসবাস করি সে বাড়ি ও আশপাশের জায়গাগুলো সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষায় বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অফিসার হলে দেশ চলবে না, যেটি ইচ্ছে করে আমরা যেটাই করি, সেটি নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালোভাবে করলে আমরা দেশটিকে সুন্দরভাবে বিকশিত করতে পারবো।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি শিশুর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ২৭ লক্ষ শিশু রয়েছে। তারা শুধু ডিগ্রাধারী হলে সমাজ ও দেশের জন্য কোন কাজে আসবে না। তাদেরকে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলা, আনন্দ-বিনোদন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও নীতি-নৈতিকতা শিখিয়ে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো।















