চুয়েটে ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ করলেন নতুন উপাচার্য

41

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।

Advertisement

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা ছাড় না করার নির্দেশ দেন তিনি।

চুয়েটের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এর মধ্যেই বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক শাখায় পাঠানো চিঠিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতন-ভাতার বিল পাঠানো অননুমোদিত ও বেআইনি। চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। ব্যাংক বেতন-ভাতা ছাড় করলে তাদেরও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে সহায়তার জন্য দায়ী করা হবে। একইসঙ্গে নির্দেশনা অমান্যকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম। তিনি জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাস ছাড় করা হয়। সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার শিটেও তারা স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। পরে উপাচার্যের চিঠির কারণে বেতন-ভাতা আটকে গেছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও নানা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কখনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-বোনাস বন্ধ হয়নি। তাদের বশে আনতেই বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, প্রতি মাসের মতো গত মাসের হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত বেতন-ভাতার শিট তারা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু উপাচার্য চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা স্থগিত রাখতে বলেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আইনি মতামত নিতে বলেছেন। মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে যান।

টানা ১৫ দিনের আন্দোলনে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Advertisement