বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীদের তালিকায় চবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমান

1

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমান।

Advertisement

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার (Elsevier)-এর যৌথ মূল্যায়নে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২% গবেষক ও বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি। তাঁর একক ও অনন্য হাত ধরেই ২০০০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। মাটির মতো অপরিহার্য প্রাকৃতিক সম্পদকে বৈজ্ঞানিকভাবে বোঝা, এর সঠিক সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মৃত্তিকাবিজ্ঞান চর্চায় তাঁর অবদান অনন্য ও সর্বজনস্বীকৃত।

দীর্ঘ একাডেমিক ও গবেষণা জীবনে তিনি মাটির উর্বরতা, জৈব পদার্থ, সার ব্যবস্থাপনা, ফসফরাসের কার্যকারিতা এবং মাটি দূষণ রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ‘Soil Organic Matter’, ‘Fertilizers’ এবং ‘Soil Analysis’ বা মাটি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তাঁর উচ্চমানের গবেষণাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএস সম্পন্ন করার পর, ১৯৯৬ সালে মাটির বৈশিষ্ট্যের সাথে সেগুন গাছের বৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। আন্তঃশৃঙ্খলা বিষয়ের সাথে মৃত্তিকাবিজ্ঞানের সমন্বয় সাধনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে এবং দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জার্নালে তাঁর একশোরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার পাশাপাশি বিশ্বমানের বেশ কয়েকটি বই লিখে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘Soils: Principles, Properties and Management’ এবং ‘Forest Soils: Properties and Management’ গ্রন্থ দুটি মৃত্তিকাবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা ও বনভূমির মাটি ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘Soil Degradation, Conservation and Remediation’ এবং ২০১৮ সালের ‘Management of Soil Problems’ বই দুটি বিশ্বজুড়ে মাটির ক্ষয় রোধ, প্রতিকার ও সমসাময়িক সংকট উত্তরণে গবেষকদের পথ দেখাচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় তাঁর এই গৌরবময় অন্তর্ভুক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পাশাপাশি পুরো বাংলাদেশের শিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণা খাতের জন্য এক বিশাল স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

Advertisement