আন্দোলন ঠেকাতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ; মোদি সরকারের পদক্ষেপে অসন্তোষ সুপ্রিম কোর্টের

দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ ঘিরে উত্তেজনা, কড়া নিরাপত্তায় রাজধানী

24

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড বসানো, পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে সতর্ক করার খবর পাওয়া গেছে।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে আয়োজিত এই আন্দোলন ঘিরে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্মসূচিতে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের অভিনেতা প্রকাশ রাজও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখা এবং রেল চলাচল বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করা উচিত নয়।

আদালত বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অযথা দুর্ভোগে না পড়েন।

হাজারো কর্মী-সমর্থক আটকের অভিযোগ

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে দলটির প্রায় ১০ হাজার কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং কী কারণে আটক করা হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি

আন্দোলন মোকাবিলায় দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের আটক রাখার জন্য রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্টেডিয়াম চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যন্তর মন্তর এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার খবরও পাওয়া গেছে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান

সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাধা এলেও তাঁদের যন্তর মন্তর অভিযান চলবে। অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠি আন্দোলনটিকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে সমর্থকদের দিল্লিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে আন্দোলনকারীরা শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, নাকি তাঁদের আগেই আটক করা হবে।

Advertisement