চুয়েটের চলমান সংকট: উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগের শর্ত, পরবর্তী বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান

26

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে চুয়েটে আন্দোলনরত সকল শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

Advertisement

গণমাধ্যমে প্রেরিত চিঠিতে তারা বলেন, ১৩ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবন থেকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রস্থান এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নামে প্রচারিত বক্তব্য সম্পর্কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সুস্পষ্ট করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের সমাধান হতে হবে সত্য, জবাবদিহি ও অংশীজনের আস্থার ভিত্তিতে; পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সেই আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানকালে মানবিক সহায়তার বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অবস্থানরত ব্যক্তিদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, জরুরি ওষুধের প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন বিবরণ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রত্যক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের আহ্বান জানাই।

উপাচার্যের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানার পর আমরা মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে অবস্থানরত অন্যদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা যায়। মানবিক সহায়তা প্রদানের এই সিদ্ধান্তকে আন্দোলনের দাবি থেকে সরে আসা বা তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সম্মতি হিসেবে ব্যাখ্যা করার কোনো অবকাশ নেই।

এই প্রস্থানের আগে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আমরা ডিসি ও এসপি মহোদয়কে এটা স্পষ্টভাবে জানাই, তিনি ক্যাম্পাসে আর আসবেন না, এই শর্তেই আমরা তাকে ছাড়ব। সেসময় তারা ঠিক আছে বলে ভেতরে যান। ভেতর থেকে যখন তাঁরা বেরিয়ে আসেন, তখন আমরা তিনবার মিডিয়ার সামনে স্পষ্টভাবে বলি, আমরা তাঁকে এই শর্তে ছাড়ছি যেন তিনি আর ক্যাম্পাসে না আসেন। এসময় তিনি কোনো বিরোধীতা করেন নি। এমনকি তাঁর সাথে আরও যে বাকি ৯ জন ছিলো, তাঁরাও বিরোধীতা করেন নি। হাতের ইশারাও ছিল না তাদের। এ কারণে নিশ্চিত হয়ে আমরা তাকে প্রস্থানের সুযোগ দেই । আর উনি যে বলছেন, উনি আবার আসবেন, উনি আবার আসার চেষ্টা করলে আমাদের আন্দোলন আরো কঠোর হবে।

আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাই, উপস্থিত গণমাধ্যমের ধারণকৃত ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ্যে এনে এই মতবিরোধের সত্যতা নিরূপণ করা হোক।

আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করছে না। ক্যাম্পাসে তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টা নতুন করে সংকট ও প্রতিবাদের জন্ম দিতে পারে; এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের বিবেচনায় নিতে হবে।

আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাক। কোনো অবস্থাতেই সংঘাত বা কারও চিকিৎসা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কাম্য নয়।

আমাদের এক দফা, এক দাবি—অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহাল। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঘোষিত শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আহ্বান, আর কালক্ষেপণ নয়; অবিলম্বে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

আমাদের মানবিকতাকে দুর্বলতা, সংযমকে পরাজয় কিংবা নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চুয়েটের মর্যাদা, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা এবং ন্যায্য দাবির প্রশ্নে আমাদের অবস্থান দৃঢ়। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

Advertisement