সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির সংকট ও কৃষি উৎপাদন হ্রাসকে দায়ী করছে এডিবি

২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিবাসী হতে পারেন বাংলাদেশের ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ

24

চট্টলা নিউজ ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির সংকট এবং কৃষি উৎপাদন হ্রাসের সম্মিলিত প্রভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সম্প্রতি প্রকাশিত Asia-Pacific Climate Report 2026 শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য জলবায়ু অভিবাসীর এই সংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস ও জীবিকার সুযোগ সংকুচিত হলে অনেক মানুষ দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারেন।

এডিবির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর অনেকেরই দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যায় বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ ক্ষতি বেড়ে ১৭২ বিলিয়ন থেকে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২১০০ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৫২০ বিলিয়ন থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এডিবির হিসাবে, উপকূলীয় বন্যার ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরে ৯ বিলিয়ন থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বছরে ১৭৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রায় পাঁচ হাজার বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর মতো উদ্যোগ রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি।

প্রতিবেদনটিতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজন অন্তর্ভুক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, নিরাপদ বসবাস এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), Asia-Pacific Climate Report 2026।

Advertisement