প্যাসিফিক জিনস

পুরোনো ভবন ভেঙে হবে আধুনিক কারখানা, কর্মসংস্থান হবে ১০ হাজার শ্রমিকের

38

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের (ইউনিট-১) একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো কারখানা ভবনে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৪ বছর পুরোনো ভবনটিতে কাঠামোগত ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবনটি ভেঙে একই স্থানে অত্যাধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বহুতল কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারখানাটি চালু হলে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।

Advertisement

রোববার (১ নভেম্বর) প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্রতিষ্ঠানটির সব কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

প্যাসিফিক জিনস কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৩৪ বছর পুরোনো ভবনটিতে আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিলের (আরএসসি) বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন (ডিইএ) করা হয়। এতে ভবনটিতে সম্ভাব্য কাঠামোগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি চিহ্নিত হয়। শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওই ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এটি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে কর্মরত ৫ হাজার ৩৭১ জন শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া গত ৩১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে, যা আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী তাদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। বেতন, ওভারটাইম, ভাতাদি, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির টাকা, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট ও মুনাফাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও পরিশোধের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্যাসিফিক জিনস আরও জানায়, চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া শেষে আরএসসির নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। এরপর একই স্থানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বহুতল কারখানা ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন কারখানায় আগের শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বেপজা জানায়, চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের সাতটি কারখানা রয়েছে। এর সবকটিতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কেবল কাঠামোগত ঝুঁকির কারণে প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের (ইউনিট-১) একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা ৩৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর খবর সঠিক নয়।

বেপজা আরও জানায়, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার সুরক্ষা এবং ইপিজেডে বিনিয়োগবান্ধব শিল্প পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন তথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কাঠামোগত ঝুঁকির কারণে একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে গ্রুপের অন্যান্য কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা নিশ্চিত করছি। একই স্থানে আধুনিক কারখানা নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুরোনো শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement