দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মাত্র ৮৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। জবাবে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। নাঈম শেখ ও লিটন দাসের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২২ রান। কাগিসো রাবাদার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন নাঈম। পরের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান সৌম্য সরকার। দলের খাতার আর ২ রান যোগ হতেই শূন্য রানে ফেরেন মুশফিকুর রহিম।
২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এই বিপদ আরও বৃদ্ধি পায় যখন দলীয় ৩৪ রানে টানা দুই বলে সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। রিয়াদ ৯ বলে ৩ রান ও আফিফ পান গোল্ডেন ডাক। দলীয় ৪৬ রানে বিদায় নেন লিটন দাসও। তিনি করেন ৩৬ বলে ২৪ রান। ৪৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হাবুডাবু খেতে থাকে বাংলাদেশ।
সপ্তম উইকেটে ১৯ রানের জুটি গড়েন শামিম হোসেন ও মেহেদী হাসান। বিশ্বকাপ অভিষেকে ২০ বলে ১১ রান করেন শামীম। টপ-মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার পরে মেহেদী একাই লড়াই করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ২৭ রান। দুইটি চার ও বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটি হাঁকান তিনি। অ্যানরিখ নরকিয়ার বলে ফিরতি ক্যাচে তালুবন্দী হন মেহেদী।
মাঠে নেমে প্রথম বলেই নাসুম আহমেদ হিট উইকেটের আত্মঘাতী ঘটনার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের। ১৮.২ ওভারে টাইগাররা সংগ্রহ করে ৮৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটি করে উইকেট পান নরকিয়া ও রাবাদা। দুইটি উইকেট নেন তাবরাইজ শামসি ও একটি উইকেট পান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দেন তাসকিন আহমেদ। রিজা হেনড্রিকসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করেন মেহেদী। ডি কক করেন ১৫ বলে ১৬ রান। পরের ওভারেই এইডেন মারক্রামকে শিকার করেন তাসকিন। ৪ বলে শূন্য রানেই ফেরেন মারক্রাম।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র ইতিবাচক প্রাপ্তি তাসকিনের বোলিং। এই ডানহাতি পেসার ৪ ওভারে ১৮ রান খরচ করে শিকার করেন দুইটি উইকেট। তবে সহজেই ম্যাচ জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান টেম্বা বাভুমা ও র্যাসি ফন ডার ডুসেন। র্যাসি নাসুমের বলে শরিফুলের তালুবন্দী হলে ভাঙে এই জুটি। তিনি করেন ২৭ বলে ২২ রান।
ডেভিড মিলার নেমেই চার মেরে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। অধিনায়ক বাভুমা ২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পেল ৬ পয়েন্ট। অপরদিকে, টানা চার ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ৮৪/১০ (১৮.২ ওভার)
মেহেদী ২৭, লিটন ২৪, শামিম ১১, নাঈম ৯, রিয়াদ ৩, তাসকিন ৩;
নরকিয়া ৩/৮, রাবাদা ৩/২০।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৬/৪ (১৩.৩ ওভার)
বাভুমা ৩১*, র্যাসি ২২, ডি কক ১৬,
তাসকিন ২/১৮।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী।

















