ইউক্রেনের জলসীমায় আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ বিমান হামলার শিকার হয়েছে। বুধবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে অলভিয়া বন্দরে থাকা ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে এ হামলা হয়।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী। হামলার পরই নাবিকরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে একজন প্রকৌশলী মারা গেছেন বলেও জানান ক্যাপ্টেন আনাম।
নিহত প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর সুমন মাহমুদ সাব্বির বলেন, “ওই জাহাজে একটা শেল হিট করেছে। সেটা ব্রিজেই বিস্ফোরিত হয়। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান মারা গেছেন।
এর আগে, ইউক্রেনের জলসীমায় আটকে পড়েছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এর এই জাহাজটি। এতে ২৯ জন নাবিক রয়েছে বলে বিএসসি সূত্রে জানা গেছে।
বিএসসি সূত্রে জানা যায়, সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়।
তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেন শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ।
বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর দেশটির বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি জাহাজটির মতো আরও কয়েকটি জাহাজ সেখানে আটকা পড়েছে।
রোববারও (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাহাজটি ওই বন্দরের সামনে নদীতে নোঙর করে রাখা ছিল। জাহাজটি অলভিয়া বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই করে ইতালির রেভেনা বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল।
এরপর জাহাজের একাধিক নাবিক নিজেদের ফেসবুক পেজে পরিস্থিতি জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তারা উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে সহায়তা চেয়েছিলেন। এরইমধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটলো।














