শোণিত দাগ, ব্যর্থতার গ্লানি, অতীতের সব ব্যথা, বেদনা, মুছে ফেলে আর ভুলিয়ে দাও যত সব জড়তা, জীবনকে বিকশিত করো অতীতের শিক্ষা থেকে এই আহবান নিয়ে আজ “মঙ্গল শোভাযাত্রা ” আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের পহেলা বৈশাখের কর্মসূচী।
সকাল ১০ টায় আন্দরকিল্লা চত্বর হতে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা,নতুনের আগমনকে বরণ এবং সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নানান ধরনের ফেস্টুন সম্বলিত এবং বাঙালী সংস্কৃতির ইতিহাস এতিহ্যর বিভিন্ন প্রতিচ্ছবি শোভা পায় এই শোভাযাত্রায়।
শুরুতেই উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি জসিম চৌধুরী সবুজের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ডা: অসীম চৌধুরী, সুনীল ধর, এডভোকেট অসীম বিকাশ দাশ, গৌতম দত্ত, জয়শ্রী মজুমদার, জয়তী ঘোষ প্রমুখ।
সভায় বক্তরা বলেন, মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা” এই চিরন্তন আকাঙ্খা নিয়ে আমাদের দ্বারে উপস্থিত হয়েছে নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩১। কালবোশেখীর তীব্র থাবা যেভাবে সব জীর্ণ মলিন রিক্ততার দিনকে উড়িয়ে নেয়, ধ্বংসের উপর সৃষ্টি করে নতুন বসতি, ঠিক সেভাবেই যেন নতুন এ বছরে ধ্বংস হয় সংকীর্ণতা আর সাম্প্রদায়িকতার মানবতাবিরোধী সব অপশক্তি। মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ যেন আবার উঠে দাঁড়ায় নতুন শক্তি আর সম্ভাবনা নিয়ে এবং এ সম্ভাবনার মাধ্যমে সমস্ত কালো মেঘ মুছে গিয়ে নতুন প্রাপ্তির আলোয় পুরো দেশ উদ্ভাসিত হয়, এ প্রার্থনা সবার। এ ভূখণ্ডের সকল জাতিগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে নিয়ে উদযাপন করতে চায় উদীচী। মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী যে অন্ধকারের দিকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ঠেলে দিতে চাইছে, সেই অপচেষ্টা থেকে দেশকে মুক্ত করতে সম্মিলিত প্রয়াস হোক এবারের নববর্ষে নতুন অঙ্গীকার।
শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে শেষ হয় এর পরেইউদীচীর শিল্পীকর্মীরা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে এবং ডিসিহিলে সম্মিলিত নববর্ষ উদযাপন পরিষদের আমন্ত্রণে সংগীত পরিবেশন করেন।
















