৬ জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১২ জনের

31

ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণায় পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন, নেত্রকোণায় একজন ও হবিগঞ্জে একজন ও কিশোরগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এছাড়াও দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুর

রংপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। শনিবার সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ওই এলাকার মৎসজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫)।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সকালে ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়। এ সময় ওই এলাকার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন মৎসজীবীরা। তা দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন। একজন আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। তাদেরকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মৎসজীবী মিলন মিয়া ও কৃষক তালেব উদ্দিন। কৃষক তালেব ঘটনার সময় আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে যখন আনা হয় তখনই আমরা দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাই।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ আলী খান (৫৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমত আলী উজ্জল পেশায় একজন মুদি দোকানি ছিলেন। দুপুরে বজ্রপাতের সময় তিনি বোন জামাইয়ের ধানক্ষেত দেখতে পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।

গৌরীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের বাসিন্দা মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গফরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে মমতাজ আলী খানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু। শনিবার দুপুরে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলতু মিয়া হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে গ্রামের সামনের মেষি হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান আলু মিয়া। এর কিছুক্ষণ পর আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাত ও বৃষ্টি শেষ পর স্থানীয় বাসিন্দারা হাওরে গিয়ে আলতু মিয়ার নিহর দেহ পরে থাকতে দেখে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

আটপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, মরদেহের সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুনাম উদ্দিন একই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্গা নেওয়া বোরো জমিতে ছেলে নুরুজ্জামান মিয়াকে (২৫) নিয়ে ধান কাটছিলেন সুনাম উদ্দিন। কাটা ধান ছেলেকে দিয়ে বাড়ি পাঠাচ্ছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আশপাশের শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেন।

ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সুনাম উদ্দিন চার ছেলেকে নিয়ে বর্গা জমিতে চাষ করতেন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার সময় তার মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হলুদ মিয়া উপজেলার ৯ নম্বর জয়কা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন হলুদ মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement