জশনে জুলুছে জনস্রোত

89

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুছ বা ধর্মীয় শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে জুলুছটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর; নারায়ে রেসালত, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.) -সহ নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আকাশ-বাতাস। অংশগ্রহণকারী সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অলি-আল্লাহর পবিত্র মাজার ভাঙার তীব্র প্রতিবাদ। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সবাই।

Advertisement

আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এবারের জুলুছ ৫২তম আয়োজন। সংগঠনটির দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন এ জশনে জুলছ। এতে নেতৃত্ব দেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবের শাহ্। অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ষোলশহর আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হয় জুলুছটি। হামদ, নাত, দরুদ পড়তে পড়তে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এরপর জুলুছ দুপুরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন মাঠে গিয়ে জমায়েত হয়। সকাল থেকে সেখানে আলেমরা বক্তব্য দেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে আলোচনা শেষে মাঠেই জোহরের নামাজ আদায় করা হয়। এরপর মিলাদ ও দোয়া করা হয়। সবশেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। মোনাজাতে তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ শান্তি সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এর আগে ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, জিপে করে আসা শুরু করেন ভক্তরা। সুন্নিয়া মাদরাসা, বিবিরহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট জিএসসি মোড় এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে। জশনে জুলুছে নেমেছে জনস্রোত।

চট্টগ্রামে জশনে জুলুছ ৫০ বছর আগে ১৯৭৪ সালের ১২ রবিউল আউয়াল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জশনে জুলুছ মিডিয়া কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফের (পাকিস্তান) তৎকালীন সাজ্জাদানশীন, আধ্যাত্মিক সাধক, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) এ জশনে জুলুছের প্রবর্তন করেন।’

এবারের জুলুছে অর্ধকোটি মানুষ অংশ নিচ্ছেন উল্লেখ করে আইনজীবী বখতিয়ার বলেন, ‘জুলুছের মধ্য দিয়ে সবার কাছে শান্তির বার্তা বয়ে দেওয়া হয়। আমরা জঙ্গিবাদবিরোধী। আমরা শান্তি-সমৃদ্ধির পক্ষের মানুষ। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ।’

আয়োজক সংগঠন আনজুমানের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘চট্টগ্রামের এই জুলুছ বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুছ।’

আনজুমানের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এ জুলুছ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করবে। আমাদের স্বীকৃতি দিতেই হবে।’

এদিকে সম্প্রতি হঠাৎ করে দেশে অলি-আল্লাহর মাজার ভাঙার অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জুলুছে আগত ভক্তরা বলেন, ঘোষণা দিয়ে মাজার ভাঙার অপচেষ্টা চলছে। আমরা আশাকরি সরকার তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নইলে এদেশের কোটি কেটি সুন্নি জনতা দুর্বৃত্তদের রেহাই দেবে না।

জানা গেছে, আনজুমান সিকিউরিটি ফোর্সের (এএসএফ) ৩০০ প্রশিক্ষিত সদস্য এবার জুলুছের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন। এর বাইরে গাউসিয়া কমিটির কর্মী ও জামেয়ার হাজার হাজার ছাত্র স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।

মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, জুলুছে এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও সক্রিয় আছেন সার্বিক নিরাপত্তায়।

জুলুছ বিবিরহাট হয়ে মুরাদপুর, মুরাদপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে ষোলশহর ২ নম্বর গেট, ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে জিইসি মোড়, লর্ডস ইন হোটেল থেকে ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর বামে মোড় নিয়ে বিবির হাট থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ফিরে আসে। এ সময় সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এছাড়া নগরের বিবিরহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, হামজারবাগ, শোলকবহর, মির্জারপুল রোডের মুখ, বায়েজিদ বোস্তামী রোডের মুখ (শেরশাহ মোড়), বেবি সুপার মার্কেট, প্রবর্তক মোড়ের মুখ, জাকির হোসেন রোডের মুখ, গোলপাহাড় রোডের মুখ ও পুনাক মোড়ে রোড ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে ডাইভারশন করা হয়।

Advertisement