শিপ ইয়ার্ড বন্ধ হলে সারাদেশের সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বন্ধ করে দেবো

495

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: জাহাজভাঙা শিল্প সীতাকুণ্ড ছাপিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাহাজের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়, পুরোনো মালামাল সংগ্রহ ও তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানাভাবে বেচাকেনা করা হয়। জাহাজ থেকে ইস্পাতসহ বিভিন্ন আসবাব, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, লুব্রিক্যান্ট, তেল ইত্যাদি পাওয়া যায়। ২৫৩ ধরনের পণ্য মিলে পুরোনো জাহাজে। এর ওপর ভর করে বিকশিত হচ্ছে আরও অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য। অনেক পণ্য আবার বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে রয়েছেন এখানে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বদলে যেতে থাকে দেশের অর্থনীতিও। বর্তমানে এই বৃহৎ শিল্পকে ধ্বংস করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলমান ষড়যন্ত্র করছে বলে উল্লেখ করেছে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীস্থ মহাসড়কে বিশাল মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে এ শিল্পরের সাথে জড়িত জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ ১ঘন্টার মানববন্ধনে হাজারো ব্যবসায়ী, শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেয়। এক কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন শেষে ভাটিয়ারী শহীদ মিনারের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, শিল্পটি সংকটে থাকলে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে সরকার এবং বেকার হতে থাকবে এই শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক। সাম্প্রতিক পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী (টিভিএস), ৩০ হাজার কোটি টাকার এই শিল্প প্রতিবছর সরকারকে ১৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব দেয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে লক্ষ কোটি টাকার প্রণ সঞ্চার করে। নানা অজুহাতে এই শিল্পের টুটি চেপে ধরার পায়তারা চলছে বহুদিন ধরে। অথচ সরকারের আইন মেনেই এই শিল্প হংকং কনভেনশনের (জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পকে পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ বজায় রাখার আন্তর্জাতিক আইন) আলোকে গ্রীন শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। সাতটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতোমধ্যে গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভ করেছে। আরো ১০টি ইয়ার্ড গ্রীন সনদ পেতে প্রস্তুত। বাকীগুলোও গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভের কাজ করছে।

তারা আরো বলেন, এই শিল্প গত এক যুগের অধিক সময় ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিরাপদ ও পরিবেশ সম্মতভাবে এই শিল্পের উন্নয়নের কাজ করেছে। সরকার ২০১৮ সালে হংকং কনভেনশন রেটিফাইও করেছে। এই শিল্পকে গ্রীন শিপ রিসাইক্লিং হিসেবে উন্নয়নের জন্য মালিকদের খরচ হয়ে গেছে হাজার কোটি টাকার বেশী। আর এখন যদি বলা হয় এই শিল্প পরিবেশগত মান মোটেও উন্নতি হচ্ছে না তাহলে সেটি হবে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ করে চট্টগ্রামকে সারা দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেব।

পরিষদের আহ্বায়ক ও পুরাতন জাহাজের ফার্নিচার সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদেন সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদস্য-সচিব ও শিপ ব্রেকিং শ্রমিক ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদ, তারেক পারভেজ, সদস্য মোঃ নবী, মোঃ খালেদ মঞ্জু, শেখ সাহাব উদ্দিন, মোঃ নছিম, মোঃ ছালামত আলী, মোঃ মইন উদ্দিন, মোঃ আজিজুর রহমান, মোঃ শাহ জামান, মোঃ সাহাব উদ্দিন, মোঃ আলমগীর, মোঃ শফিকুল আলম, মোঃ নাজিম উদৌলা, মোঃ মোজাহের আলম, মোঃ নজির আহম্মদ, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ হামিদ, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ রবিউল হক, খোরশেদ আলম মেম্বার, মোঃ তসলিম, মোঃ রানা, মোঃ মহিউদ্দিন, রঞ্জন বাবুসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

Advertisement