বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উত্থাপিত সাত দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় শিক্ষার্থীদের অধিকার সংশ্লিষ্ট সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
১ম দফা:
১. ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে দুইটি বহুতল (১০ তলা বিশিষ্ট) হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে ।
২. পুরাতন শামসুন্নাহার হল সংস্কার করে চালু করা হবে।
৩. সোহরাওয়ার্দী হলের পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার করে আসন বরাদ্দ দেয়া হবে।
৪. বিদ্যমান হলগুলোর ব্যবহার অনুপযোগী রুমগুলো সংস্কার করে আসন বরাদ্দ দেয়া হবে।
৫. ক্যাম্পাসে যে সকল ভবন অব্যবহৃত আছে সেগুলো শিক্ষার্থীদের আবসন উপযোগী করে আসন বরাদ্দ দেয়া হবে।
৬. পরীক্ষামূলকভাবে ছাত্রী হলে ডাবল ডেকার সীট স্থাপন করা হবে।
দ্বিতীয় দফা:
১. উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মহোদয় সেশনজট নিরসনে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টের সাথে আলোচনা করবেন।
২. সেশনজট নিরসন তদারকি করতে বিশেষ কমিটি করা হবে।
৩. রেজাল্ট অটোমেশন পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৪. পরীক্ষার খাতা পূনর্মূল্যায়ন আজকের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদিত হয়েছে।
৩য় দফা:
১. প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রেন বৃদ্ধির জন্য রেলওয়ে কতৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
২. একটি নতুন ট্রেন এবং সব ট্রেনে সচল পাওয়ার কার সংযুক্ত করা হবে।
৩. ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজিকরণে গল্প-কার্ট (ই-কার) আমদানি করা হয়েছে। যা অতি শীঘ্রই চালু করা হবে।
৪. চক্রাকার বাস চালুর বিষয়ে আলোচনা করে জানাবেন।
৫. ট্রেনে রেলওয়ে থেকে নিরাপত্তা কর্মী দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিযুক্ত করা হবে।
৪র্থ দফা:
১. আগামী ১ তারিখ সিন্ডিকেট সভায় চাকসুর নীতিমালা পাশ করা হবে।
২. আগস্টের মাঝামাঝিতে চাকসুর রোডম্যাপ দেয়া হবে।
৫ম দফা:
১. দ্রুত সময়ের মধ্যে টিএসসি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
২. টিএসসি কমপ্লেক্সের ভিতরে অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হবে।
৩. কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংস্কারের কাজ অতিশীঘ্রই শুরু হবে।
৪. অতিশীঘ্রই শহীদ ফরহাদ হোসেন হল এবং অতিশ দীপংকর হলের পাশে জামে মসজিদ নির্মাণ করা হবে।
৫. শাহ আমানত হলের ২য় ডাইনিং সংস্কার করে চালু করা হবে।
৬ষ্ঠ দফা:
★ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৭ম দফা:
★ যথাযথ প্রমাণসহ অভিযোগ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সর্বশেষ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খাঁন ছাত্রশিবিরের সাত দফা দাবির যৌক্তিকতা শিকার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সবগুলো দাবি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
উক্ত সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খাঁন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী, প্রক্টর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসাইন, আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাদাত হোসাইন, সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসাইন, পারভিন আক্তার, নুরুল হামিদ কানন উপস্থিত ছিলেন।
চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রশাসনের সাথে আলোচনা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি শতভাগ আদায়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার কথা জানান এবং শিক্ষার্থীদেরকে তাদের দাবি আদায়ে ছাত্রশিবিরের পাশে থাকার আহ্বান করেন।
এসময় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ইব্রাহিম হোসেন রনি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ, বায়তুলমাল সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, এইচ আর এম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রুহুল আমিন, এইচ আর ডি সম্পাদক রবিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, সাহিত্য সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, প্রকাশনা সম্পাদক সাদরুজ্জামান মুজাহিদ, শিক্ষা সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, আমানত হল সভাপতি সৈকত হাসান, শহীদ মোঃ ফরহাদ হোসেন হলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ সভাপতি রবিউল ইসলাম।

















