চবি মেরিন সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী সেশন অনুষ্ঠিত

ইকোসিস্টেম সুরক্ষা ও সমুদ্র ভিত্তিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে: মৎস্য উপদেষ্টা

195

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এর আয়োজনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ব্লু ইনোভেশন: সেইফগার্ডিং ওশান হারমোনি’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ২য় দিনে আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) উদ্বোধনী অধিবেশন চট্টগ্রাম নগরের দ্য পেনিনসুলা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, সমুদ্র বিজ্ঞানে বাংলাদেশে অত্যন্ত দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানী আছেন। নীতিনির্ধারণে তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য প্রাধান্য দিতে হবে। ইকোসিস্টেম সুরক্ষা, সমুদ্র ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জলবায়ু সহনশীল মৎস্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ, অপ্রকাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা একক দেশের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, বড় শিকারী মাছ কমে যাওয়ায় জেলিফিশের আধিক্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য বিপজ্জনক সংকেত। এসব ফলাফল বঙ্গোপসাগরের ইকোসিস্টেমে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হলো গবেষণা, উদ্ভাবনের মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন ধারণা সৃষ্টি করা। বাংলাদেশে সমুদ্র সম্পদ নিয়ে গবেষণার অবারিত সুযোগ রয়েছে। আমাদের বিদ্যমান সমুদ্র সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দারুণভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। আমাদের ক্যাম্পাসে ওশান স্যাটেলাইট স্থাপন হচ্ছে, এর মাধ্যমে সমুদ্র গবেষণায় সমৃদ্ধ হওয়া যাবে। উপাচার্য বলেন, কোনোভাবে সমুদ্র সম্পদ অবহেলা করার সুযোগ নেই। আমাদের সীমিত সমুদ্র সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি এ কনফারেন্স থেকে নতুন নতুন ধারণা বের হবে, যা সমুদ্র গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৩০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা সম্পদে ভরপুর। আমাদের বঙ্গোপসাগর ফিশারিজ, হাইড্রো কার্বন মিনারেল ও বায়োডাইভারসিটিতে সমৃদ্ধ। এটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সুনীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ভালো অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন এমন উদ্যােগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি সময়োপযোগী একটি কনফারেন্স। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য সুনীল অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের অনেক সমুদ্র সম্পদ রয়েছে। এ কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের গবেষকরা রয়েছেন, আশা করি সমুদ্র গবেষণায় নতুন নতুন ধারণা উঠে আসবে।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের বিজনেস স্কুলের ড. পিয়ের ফাইলার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের পরিচালক ড. শেখ আফতাব উদ্দিন আহমেদ। বক্তারা সকলেই সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ব্লু ইকোনমির মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। চবি মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নেছারুল হকের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সি-রিসোর্স গ্রুপের পরিচালক রুমানা রউফ চৌধুরী, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত গবেষকবৃন্দ, চবি মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। উদ্বোধনী অধিবেশনে ইনস্টিটিউট অফ মেরিন সায়েন্সেসের গৌরবময় ৫০ বছরের পথচলা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়।

Advertisement