ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে জনগণের ভূমিধস ভোট বিজয়ের আনন্দ ধরে রাখতে সকল শ্রমজীবী কর্মচারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ও শোকরানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল পাহাড়তলী ডিপো শাখা চট্টগ্রাম।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) উক্ত বিজয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল ডিপো শাখা, পাহাড়তলী চট্টগ্রাম এর সভাপতি মোঃ আবু তালেব।
ধানের শীষ মার্কার ভোট বিজয় ও শোকরানা মোনাজাত ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন রেল শ্রমিক দল ডিপো শাখা পাহাড়তলীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম। উক্ত বিজয় ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উক্ত শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ আতিকুল রহমান, সাইদুর রহমান, মমিন, আবুল কালাম আজাদ, মিজান, জাহাঙ্গীর আলম, ফজলুর রহমান, মইনুদ্দিন, মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন নূর হোসেন, মাহমুদ হাসান রবিন রেল শ্রমিক ডিপো শাখা পাহাড়তলীর মহিলা বিষয়ক সদস্য জেনিফার ইয়াসমিন, উম্মে কুলছুম, নিলুফা ইয়াসমিন, আসমা আক্তার, তাওমিনা আক্তার, মনোয়ারা, শাহনাজ লাভলুসহ আরো উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল সিসিএস শাখা পাহাড়তলীর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ বদিউজ্জামান, কার্যকরী সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাইনুল ইসলাম রানা, সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মনজুর মোরশেদ, সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাশেদুল হক, দেলোয়ার হোসেন, মোঃ হৃদয়, মোঃ সোহাগ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন।
কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলের শ্রমিক ও কর্মচারী দল অ্যাডভোকেট এম আর মঞ্জু ভাইয়ের নেতৃত্বে এক এবং ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে রেলকে একটি আধুনিক ও উন্নতশীল শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগানকে উদ্দেশ্য করে কামাল বলেন, এই স্লোগান শ্রমিক বান্ধব স্লোগান, রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্লোগান।
কামাল হোসেন আরো বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হতে শুরু করে এ পর্যন্ত জুলাই ও ৫ই আগস্ট কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতার বৈষম্যের গণঅভ্যুত্থান কোনোটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
কামাল হোসেন বলেন, রেলওয়ে নিয়োগবিধি ২০২০ অবিলম্বে সংশোধন করে অতি শীঘ্রই শ্রমিকবান্ধব একটি নিয়োগ বিধি প্রণয়নের জন্য জোর দাবি জানান রেলওয়ে মন্ত্রণালয় মাননীয় মন্ত্রী বরাবর। তিনি আরো বলেন, কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত যথাসময়ে সকল কর্মচারীদের পদোন্নতির জটিলতা নিরসন করে সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় বাংলাদেশের ২২ লক্ষ সরকারি শ্রমিক কর্মচারী বেতন বৈষম্যের শিকার এই বেতন বৈষম্য শিকারের হাত থেকে ২২ লক্ষ কর্মচারীকে বাঁচাতে হবে। বিগত ইন্টিরিম সরকার যে বৈষম্য মূলক বেতন কমিশন গঠন ও সুপারিশ করেছিলেন তা আকাশচুম্বি ব্যবধান এবং তা বাস্তবায়ন হয়নি। কর্মচারীরা অনেক ক্ষোভ অনেক ক্ষুব্ধ এবং মন মানসিকতা কোনোভাবে কর্মস্থলের সঠিকভাবে কাজ করে না। কারণ, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর ধরে নির্দিষ্ট সময় যে একটি বেতন কাঠামো হওয়ার কথা ছিল এবং জিনিসপত্রের মূল্যের সাথে বর্তমান বেতনের ফারাক প্রায় শত ভাগেরও বেশি। এই বৈষম্য দূর করে একটি সহনশীল মার্জিত বাজারের দ্রব্যমূল্যের সাথে মিল রেখে দ্রুত গতিতে বর্তমান বিএনপির তারুণ্য সরকার তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সহসাই যাতে একটি পে স্কেল প্রণয়ন করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে গেজেট করে তাহলে শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের কর্মস্থলে মনোযোগী হবেন এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে উন্নতির রোড মডেল হিসেবে শ্রমিক কর্মচারীরা ভূমিকা রাখবে।
পরিশেষে কামাল বলেন একটি দেশের শ্রমিক কর্মচারী যদি শাসন ও শোষণের শিকার হয় তাহলে ওই দেশ কখনো উন্নতির রোড মডেল হতে পারে না সুতরাং জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে শ্রমিকদেরকে প্রাধান্য দিতে হবে শ্রমিকের বুদ্ধিমত্তা এবং শরীরের শক্তি থাকলে একজন শ্রমিক তার কাজে মনোনিবেশ হবেন এবং রাষ্ট্রবিনির্মাণের সঠিক ভূমিকা পালন করবেন।
উপস্থিত সকল শ্রমিক কর্মচারীর উদ্দেশ্যে কামাল বলেন আপনারা সঠিকভাবে কর্মস্থলে আসবেন এবং সঠিক সময় কর্মস্থল ত্যাগ করবেন সকল শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলে দাবি আদায়ের সোচ্চার থাকবেন ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে আছি।
পরবর্তীতে সমাপনী বক্তব্য কালে কামাল বলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জিকির যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। “করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” এই স্লোগানটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশির জাতির শ্রেষ্ঠ স্লোগান হতে পারে।

















